Content

Sunday, July 19, 2015

RIP (Research in Progress)

RIP (Research in Progress)
বিধিসম্মত সতর্কীকরণ- এটা আমার আত্মকথন নয়। আমার জীবন ঠিক এর উল্টো। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন হতভাগ্য, নিপীড়িত, শোষিত গবেষকের আখ্যান। এরা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে ধূমকেতু। তবে আমাশায় ভুগছেন আজকাল। কে জানে কখন তারা খসে ? ধূমকেতু বলে কথা! ও হ্যাঁ সব চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক। যদি বাস্তবের সাথে কেউ কোন মিল খুঁজে পেয়ে থাকেন, তবে তাকে কাকতালীয় বলে ধরে নেবেন।

সকাল থেকে হরিপদ ক্যালানে আতা’র মত মুখ করে বসে আছে। অথচ দিব্যি হাসিখুশি মানুষ হরিপদপরিচিত মহলে মজার মানুষ হিসেবে ভাল নাম আছে। একটু- আধটু জাদু-টোনা জানে কিনা! তবে এটা তার নেশা। পেশা হ’ল গবেষণা করা। শুনলেই কেমন ভারি ভারি ঠেকে। মানুষটা তবে বেজায় পলকা। কসকো’র মত। ঠিক যেন পালকের স্পর্শ। হরিপদ অবিশ্যি একটা জিনিস বিশ্বাস করে, ‘পি এইচ ডি  করে কেউ আইনস্টাইন হয়না’। এহেন হরিপদ আজ বেজায় খচে গিয়েছে।
খচেন দা সকাল সকাল আনন্দবাজারটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘দ্যাখ কী লিখেছে! চমকে যাবি এক্কেবারে’। সত্যিই তো! ইউনেস্কো জানিয়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রতি ঘরে একটা করে পি এইচ ডি  স্কলার থাকবে। হরিপদ গুগুল করে একটা হিসেব কষে ফেলল। ‘ঢপ’! নিজের মনেই বিড়বিড় করল। তবে আনন্দবাজার বলে কথা! এরা পরিবর্তন আনতে পারে, আবার পরিবর্তনের পর কাঠি  হাতে কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত হয়। আর সমস্যাটা হচ্ছে ভাল জিনিস যত কম হয় তত মঙ্গল। রবি ঠাকুর কবেই এসব বলেছেন। আসলে প্রতি ঘরে একটা করে পি এইচ ডি ‘র গপ্পটা সত্যি হলে গবেষণা জিনিসটা আর যুতসই থাকবেনা। স্নবিং এফেক্টটাই চলে যাবে।  সব দেখেশুনে হরিপদ খিঁচরে উঠেছে।
আজকাল ঠিকঠাক ঘুম হয়না। গবেষকদের জীবনে এই ফেজটা না এলে গবেষণাই মাটি। তবে হরিপদ’র সমস্যাটা এক্কেবারে ভিন্ন ধরণের। ঘুম একটু গভীর হলেই একটা স্বপ্ন দেখে সে। রাত জেগে গবেষণাপত্র লিখতে লিখতে টোকো ঢেঁকুর ওঠে। চারদিকে চুনোপড়া ঢেঁকুরের গন্ধ ক্রমশ ভারী হয়ে আসে। কেমন একটা নেশার মত লাগে। যেন অম্বল হয়েছে। তখনই দিস্তা দিস্তা লেখাগুলো একটা মলিন গামছার ত্যানা’র মত হয়ে যায়। অদ্ভুত ভাবে চেয়ে থাকে তার দিকে।  আর কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলে একটা শয়তানের জন্ম হয়। শয়তানটা ‘কন্ট্রোল এ’ প্রেস করে সব ডকুমেন্ট সিলেক্ট করে নেয়, তারপর শিফট ডিলিট। সব শেষ। হরিপদ চিৎকার করে ওঠে। কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বেরোয় না। অদ্ভুত পরিস্থিতি! এরপর খোনা গলায়  শয়তানটা বলে ওঠে, ‘কিস্যু হয়নি। রিভিউয়ারের কাছে পাঠালে আবার রিসার্চ রিপিট করতে বলবে’। স্বপ্নের মধ্যেই হরিপদ নিজের রিসার্চ সুপারভাইজারকে খুঁজতে যায়। কেবিনে বসে তিনি আখাম্বার মত ঘুমুচ্ছেন।হরিপদ করুণ ভাবে ডাকে, ‘স্যার’। কুতকুতে চোখ বন্ধ করেই তিনি বলেন, ‘উফ! কী জ্বালা। একটু বিশ্রাম নিতে দেবে না এরা। যা পারো করগে!  স্বাবলম্বী হও এবার’।
এরপর স্বপ্ন ভেঙে যায়!

No comments:

Post a Comment