Content

Showing posts with label Non Fiction. Show all posts
Showing posts with label Non Fiction. Show all posts

Friday, December 25, 2015

বড়দিন নিয়ে ১০টি বড় অদ্ভুত খবর


বড়দিন নিয়ে ১০টি অদ্ভুত খবর
২৫শে ডিসেম্বর মানেই বিশ্ব জুড়ে আনন্দের ঢেউ । পরমপিতার নিজের ছেলের জন্মদিন। অথচ গবেষকরা জানিয়েছেন, ২৫শে ডিসেম্বর যে প্রভু যিশুর জন্মদিন, এবিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্যপ্রমাণ নেই। অনেকেই মনে করেন যীশুর জন্ম হয়েছিল বসন্ত কালে। তবুও সারা বিশ্বই এই দিনটিকে তাঁর জন্মদিন হিসেবে পালন করে।  এখন বড়দিন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, আনন্দের উৎসব। বড়দিনে মাতোয়ারা হওয়ার আগে জেনে নিন অদ্ভুত কয়েকটা তথ্য ।
১০) সান্টাক্লজের নাকি স্ত্রী আছে
 বড়দিন বলতেই পেটমোটা, লাল জামা আর দুধ সাদা দাড়ির সান্টাক্লজের কথা মনে আসে। তাঁর সাথে থাকে হরেক উপহারের ঝোলা। উত্তর আমেরিকার লোকগল্প অনুসারে সান্তা বুড়োর আসল নাম, ক্রিস ক্রিংল। তিনি ছোটদের খেলনা তৈরি করতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম জেসিকা। অনেকে মিসেস ক্লজও বলে থাকেন। তবে তাঁর আরও নাম আছে।
তাঁর কথা প্রথম ১৮৪৯ সালে জেমস রিস তাঁর ছোটগল্প "A Christmas Legend"- এ বলেন। এরপর ১৮৫১ সালে ‘A B’ ছদ্মনামে এক তরুণ গবেষক, তাঁর লেখায় মিসেস ক্লজের কথা বলেন।
৯) সব থেকে বড় ক্রিসমাস ট্রি
বাজারে আমরা নকল ক্রিসমাস ট্রি দেখে থাকি। আসল ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে সবুজ পাইন, ফারের মত কনিফার জাতীয় গাছ ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে সারা বিশ্বেই আদিখ্যেতা দেখা যায়। তবে ১৫-১৬ শতকে জার্মানিতেই প্রথম ক্রিসমাস ট্রি’র ব্যবহার শুরু হয়।
তবে সবাইকে চমকে দিয়ে ওয়াশিংটনের নর্থগেট শপিং সেন্টার ১৯৫০ সালে একটি ২২১ ফুট লম্বা ফার গাছ থেকে ক্রিসমাস ট্রি বানিয়েছিল। এটা গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও স্থান পায়। ১০-১২টা জিরাফ পরপর একে অপরের উপরে দাঁড়িয়ে গেলে এই ক্রিসমাস ট্রি’র সমান লম্বা হতে পারবে!
৮) ইংল্যান্ডে অদ্ভুত ডিনার
ইংল্যান্ডে বড়দিন উপলক্ষে অনেকেই কাসুন্দি দিয়ে শুয়োরের মাথা মাখিয়ে খায়। তবে এই পরম্পরা এখন বিলুপ্তপ্রায়। ও হ্যাঁ, ইংরেজরা এই ডিনার সারতেন শেষ বিকেলে।
৭) সান্টাক্লজের আসল নাম সেন্ট নিকোলাস
একটু আগেই বলেছিলাম, সান্তা বুড়োর আসল নাম, ক্রিস ক্রিংল। এই নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন সান্টাক্লজ নামটি এসেছে এক সেন্ট নিচোলাস নামক এক তুর্কি পাদ্রীর নাম থেকে। চতুর্থ শতকে সেন্ট নিকোলাস তাঁর দানধ্যানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি শিশু মহলে খুব জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে অজস্র গল্প তৈরি হয়। তাঁর নাম ডাচ লোকেরা ভুল উচ্চারণ করত।  সেন্ট নিচোলাস হয়ে গেলেন সেন্ট নিকোলাস। আরও সুবিধের জন্য তাঁর নাম অনেকেই রাখলেন সিন্টার ক্লাস।  এই নাম আরও ছোট হতে হতে সান্টাক্লজ হয়ে যায় একসময়।
৬) কলম্বিয়ার জঙ্গলে বড়দিনের আলো
২০১০ সালে কলম্বিয়া সরকার বড়দিন উপলক্ষে তাঁদের সমস্ত বনভূমি আলোয় ঢেকে দিয়েছিলেন। এটা আসলে একটা বিশেষ ক্যাম্পেন ছিল। যখন ফারক গেরিলা সন্ত্রাসীরা এই বনভূমি দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বনের বিভিন্ন গাছে লাগিয়ে রাখা পোস্টার তাঁদের চোখে পড়ে। এরপর ৩৩১ জন সন্ত্রাসবাদী সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসে।

৫) বড়দিন উপলক্ষে ভূতের গল্প
বড়দিন উপলক্ষে ভূতের গল্প বলার নিয়ম আগের শতাব্দীতেও ছিল। ২০০১ সালে সেন্ট মারটিন প্রেস থেকে প্রকাশিত Inventing The Victorians’ বই থেকে জানা যায় যে বড়দিন উপলক্ষে ভূতের গল্প বলার রেওয়াজ ভিক্টোরিয়ান যুগেও ছিল। শুধু গল্প বলার এই রীতিকে ইংরেজ লেখকেরা এরপর তাঁদের সাহিত্যে নিয়ে আসেন। এরপর ‘ঘোস্ট অফ ক্রিস্টমাস’, ‘ক্রিস্টমাস স্পিরিট’-এর মত অজস্র জনপ্রিয় ভূতের গল্পের সিরিজ প্রকাশিত হতে থাকে। এমনকি চার্লস ডিকেন্সের লেখাতেও বড়দিনের ভূতের গল্পের উল্লেখ আছে।
৪) বিশ্বযুদ্ধের ময়দানেও বড়দিন উদযাপিত হয়েছিল
১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি আর ব্রিটেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। ২৫শে ডিসেম্বর দু’পক্ষই নিজেদের ক্যাম্প, যুদ্ধক্ষেত্র সাজিয়ে ছিল। এমনকি নিজেদের মধ্যে উপহারের আদানপ্রদানও হয়েছিল। এই উপলক্ষে দু’পক্ষের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজনও হয়েছিল। অজস্র রক্তপাতের মাঝেও মানুষ উৎসবে মেতেছিল, তাঁদের বাঁচার আকুতি থেকেই।

৩) বড়দিনঃ সুইডেনের লোকেদের কাছে ‘ডোনাল্ড ডাক’ দেখার দিন
ডোনাল্ড ডাকের নাম কে না শুনেছে! ছেলেবেলায় আমাদের প্রিয়তম কার্টুন চরিত্রগুলোর একটা। সুইডেনের লোকেরা ডোনাল্ড ডাককে বলে ‘কাল্লে আঙ্কা’। ২৫শে ডিসেম্বর সপরিবারে, একাএকা, দু’জনে মিলে ‘কাল্লে আঙ্কা’ বা ডোনাল্ড ডাকের কার্টুন শো দেখাই সুইডেনের ট্র্যাডিশন। এসময় রাতের খাবার তৈরি করা যাবে না। এমনকি কার্টুন শো চলাকালীন রাতের ডিনার সারা যাবে না। বিগত ৫০ বছর ধরে সুইডেনে এটাই রীতি। বিকেল ৩টায় শো শুরু হয়, এসময় সব দোকান-পাট বন্ধ থাকে।
২) সান্টাক্লজের জামা নাকি কোকাকলা’র দেওয়া
১৮০৪ সাল। নিউইয়র্ক হিস্টোরিকাল সোসাইটি’ র মিটিঙে জন পিন্টারড একটি কাঠের মূর্তি দেখালেন। মিস্টি হাসির বুড়োর মূর্তি। সাথে ঝোলা ভর্তি খেলনা। নাম সেন্ট নিক। ধরে নেওয়া হয় এটাই সান্টাবুড়োর প্রথম মূর্তি। সে সময় সান্টাবুড়ো নীল, সবুজ আর সাদা রঙের জামা পড়ত।
তবে আমরা সান্টাক্লজের যে রূপ দেখতে অভ্যস্ত, তা বাজারে নিয়ে আসে কোকাকোলা। ১৯২০ সালে The Saturday Evening Post পত্রিকায় প্রথম দেখা যায় আধুনিক সান্টাক্লজকে। এরপর ১৯৩০ সালে আবার বড়দিনের সময় কোকাকলা বাজারে নিয়ে আসে সান্টাবুড়োকে।  সান্টাক্লজ উপহার বিলোতে বিলোতে ক্লান্ত হয়ে কোক খাচ্ছে। ছবিটি এঁকে ছিলেন ফ্রেড মিজেন। সেই শুরু, এরপর ফি বছর ডিসেম্বর মাসে বুড়ো উপহার নিয়ে আসেন।
১) তথ্য বলছে ক্রিসমাসের দু’ সপ্তাহ আগে সব থেকে বেশি ব্রেকআপ হয়
ডেইলি মেল নামক একটি প্রখ্যাত ওয়েবসাইট জানিয়েছে যে  যে ক্রিসমাসের দু’সপ্তাহ আগে  ব্রেকাপের হার সর্বাধিক। যদিও ক্রিস্টমাসের দিন এই সংখ্যাটা নগণ্য। ম্যাক ক্যান্ডলেস ১০,০০০ ফেসবুক আপডেট স্ট্যাটাস নিরীক্ষা করে এই রিলেশন ব্রেকআপ গ্রাফ প্রকাশ করেছে এ বছর আগস্ট মাসে।



Sunday, December 20, 2015

ভাঙা প্রবন্ধ- কামতাপুরের ধরলা নদী



কামতাপুরের ধরলা নদী আর ছেলেবেলার মেঘ
 ( ‘লেখালেখি’ পত্রিকায় প্রকাশিত  ‘কামতাপুরের রাজপাটঃ একটি বিস্মৃত রাজধানী’র প্রত্নখনন’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশবিশেষ) 

বর্ষার সময় আমাদের উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলো গাঢ় সবুজ হয়ে যায়। কালচে মেঘের ছায়া পড়ে পুকুরের জলে। মাঝে মাঝে আকাশের গোঙরানি আর চপচপে হিউমাস কাদায় চপর চপর শব্দ আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। এরপর অবিরাম ধারাপাত। মানকচুর ছাতা মাথায় আড়ষ্ট পায়ে ছুটে চলে মাঠ ফেরত কিশোরী...। ক্রমশ বৃষ্টি ধারায় ঢেকে যায় সবকিছু। খড়ের ছাউনি চুইয়ে বৃষ্টি ঝরে ঝরে পড়ে। ভেসে আসে গরুর ডাক। তোর্সা পারের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে এসময় ধানের বীজ ফুঁড়ে সবুজ প্যাস্টেল ঘষা নির্মলতা।তবুও এই রঙ আর নির্মলতায় একটা বেদনার সুর ভেসে আসে। শট ট্রানসাকশন হয়। মেঘের ফাঁকে ফাঁকে অপার্থিব আলো।তবুও মায়ের কান্নার মত অজস্র বারিপতন...। 
বন্যার আশংকা আর স্যাঁতস্যাঁতে অ্যাজোলা মাড়িয়ে ধান ক্ষেতে কাজ করে হারান মিঞা আর রুনু বর্মণ। ফোলা চোখে চেয়ে থাকে চাষির পো।তার ফোলা চোখ, চ্যাপ্টা ঠোঁটে লেগে থাকে বৃষ্টিবিন্দু।চারদিক কেমন ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে ওঠে।বৃষ্টি সিক্ত অজস্র এলোমেলো বাতাস এই দিগন্ত বিস্তৃত ক্যানভাসের হলদেটে সান্দ্র রঙ শুষে নিতে পারেনা। তার ফোলা চোখের অবাক দৃষ্টি আর মেঘ ভাঙা আলোয় ধানক্ষেতের মান্তাজে ধরা দেয় সত্যজিতের নিশ্চিন্দিপুর। কেন, কীভাবে জানিনা। রবিশঙ্করের সুরে বাজতে থাকা বাঁশীর মত বুক দোমড়ানো সুরে রিক্সাওয়ালা গেয়ে ওঠে কামতাপুরের আদি সঙ্গীত-
ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে
উড়িয়া যায়রে চকোয়ারে পংখী
বগীক বলে ঠারে
ওরে তোমার বগা বন্দী হইছে ধল্লা নদীর পারে রে

ভাওইয়া গানে এভাবেই ফিরে ফিরে আসে জল-জমি-জঙ্গলের কথা। এ গানেও একটা নদীর নাম আছে- ‘ধল্লা’। এই ‘ধল্লা’ নদী বোধহয় ‘ধরলা’ নদী।‘ধরলা’ নদীর কথা পাওয়া যায় ডাঃ বুকানন হ্যামিলটন সাহেবের কামতাপুর ভ্রমণের কাহিনীতে। সেটা ১৮০৯-১০ সাল।তথ্য বলছে, সে সময় কামতেশ্বর রাজার রাজধানীর পূর্ব দিকে ছিল ‘ধরলা’ নদী।কামতাপুরের উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিম জুড়ে বিদ্যমান ছিল বিশাল মাটির গড়। ধরলা নদী শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে এই রাজপাট রক্ষা করত। এ প্রসঙ্গেও উপযুক্ত তথ্যাদি রয়েছে। যাইহোক, সে আর এক ইতিহাস। তবে ‘ধরলা’ নদীর বর্ণনা করতে গিয়ে হ্যামিলটন সাহেব ‘বিশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন ১*। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ‘ধরলা’ নামে যে নদীটি কামতাপুরের গড়ের কাছে প্রবাহমান- তা একটি শীর্ণকায়া উপনদী।কোন পূর্ণিমার রাতে একে রূপোলী ফিতে বলে ভ্রম হয়। আগেই বলা হয়েছে হ্যামিলটন সাহেবের বর্ণনা অনুযায়ী কামতেশ্বর রাজার রাজধানীর পূর্ব দিকে ছিল ‘ধরলা’ নদী।আমরা যে ‘ধরলা’ নদীর রেফারেন্স এখানে টানছি, তা গড়ের উত্তর দিকে প্রবাহমানএক্ষেত্রে দুটো হাইপোথিসিস দাঁড় করানো যায়- ১)হ্যামিলটন সাহেবের দেওয়া তথ্য ঠিক নয় অথবা ২) আমরা যে ‘ধরলা’ নদীকে কামতেশ্বর রাজার গড়ের রক্ষী বলে ধরে নিচ্ছি, তা আসলে ইতিহাসে বর্ণিত ‘ধরলা’ নদী নয়। এক্ষেত্রে আরও একটা প্রশ্নের উদ্রেক হয়ঃ তাহলে গোঁসানিমারির গড় কি কামতেশ্বর রাজার রাজধানী নয়? বলাবাহুল্য, উত্তরবঙ্গে ‘ধরলা’ নামে একাধিক নদী আছে।জলপাইগুড়ি জেলার উপকণ্ঠে অবস্থিত শহর ময়নাগুড়ি ১**। এই শহর গড়ে উঠেছে ‘জড়দা’ নদীর তীরে। এই নদীর গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর একটি উপনদী রয়েছে যার নাম ‘ধরলা’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ময়নাগুড়ির খুব কাছেই জল্পেশ্বরের মন্দির। এই মন্দিরের নাম অনুসারে এই জায়গাটির নাম হয়েছে ‘জল্পেশ’ ১***।‘জড়দা’ নদী এই জনপদের পাশ দিয়ে বয়ে কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধার কাছে এসে ‘ধরলা’ নামে প্রবাহিত হয়েছে। এরপর এই নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মানসাইয়ের সাথে মিশেছে। এই মানসাই আসলে জলঢাকা। এই নদীর সাথে ব্রহ্মপুত্র নদের একটা যোগ পাওয়া যায়। শোভেন সান্যাল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কোচবিহার কিছু কথা কিছু ইতিহাস’-এ এই ধাঁধার সমাধান করেছেন-
‘বর্তমানের ধরলা এবং সিঙ্গিমারি নদীর সঙ্গে ডাঃহ্যামিলটনের বিবরণের যথেষ্ট তফাত থেকে যাচ্ছে। এই তফাতের একটাই কারণ উত্তরবঙ্গের নদীগুলির ঘনঘন দিক পরিবর্তন।এখন নানারকম সংরক্ষণমূলক বাঁধ প্রভৃতি দেওয়ার ফলে নদীগুলির মোটামুটি একটা স্থায়ী গতিপথ আছে। কিন্তু কয়েকশো বছর আগে এসব কিছুই ছিল না।ফলে প্রতিটি বন্যাতেই নদীর গতিপথের পরিবর্তন ঘটত। ধরলা নদীর গতিপথ নিয়ে আলোচনা করতে গেলেও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে’।        
বৃষ্টি থেমে গেলে একটা মনমরা রোদ চোখ ভিজিয়ে দেয়।ধরলা নদীর তীরে ভেজাভেজা বালির ওপর জমা হয় শেষ বিকেলের আলো। শতশত বছর ধরে বর্ষাকালেই বদলেছে ধরলার গতিপথ। হয়তো কাকতালীয় হবে, কিন্তু ধরলা আবিষ্কারের দু’শ বছর পর আমিও এখানে এসেছি এই বর্ষাকালেই। হু হু করে বয়ে আসা বর্ষার বাতাসে দুলে দুলে ওঠে সুপুরি বনের সারি। তখনও দিনহাটা মফস্বলে ঘিঞ্জি শহুরে আবাস তৈরি হয়নি। সমস্ত দিন মেঘ কালো ছায়া ঢেকে দিত গোঁসানিমারি গড়ের বাঘ দুয়ার। মেঘের ফাটল চুইয়ে ঝরে পড়ত অপার্থিব আলোর রেণু। কোন মানুষের হেলদল নেই। পুরনো বটের মত নির্লিপ্ত ভঙ্গীতে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত মাটির গড়ের শেষ চিহ্ন। চোখ ফোলা বুড়োরা তৈরি করত অজস্র কিংবদন্তী
তথ্যসূত্র নির্দেশঃ
১) কোচবিহার কিছু কথা কিছু ইতিহাস- শোভেন সান্যাল। (১*, ১**, ১***)
২) বিষয়ঃ কোচবিহার- কোচবিহারের ইতিহাস – ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল।    


Wednesday, November 25, 2015

প্রকাশিতঃ ট্রাভেলগ স্কেচ বুক- বুন্দী ভ্রমণ




বুন্দী বলিরেখা আর স্মৃতির রেখাচিত্র  
প্রকাশ কাল- ২৫শে নভেম্বর, ২০১৫
পত্রিকা- শব্দের মিছিল
সম্পূর্ণ লেখার লিংক- http://www.sobdermichil.com/2015/11/shambo.html
 
এরপর এখানে রাত আরও গভীর হয়ে আসবে। পাথর- ছবি জড়ো করে উদ্বাস্তু হৃদয় যত হেঁটে বেড়াবে অলিগলি। যৌবন যৌতুক রাখা কয়েকজন নিজের জঠরে জমাবে শহরের বলিরেখা। অখন্ড নীরবতার পেলব গন্ধ মাখা অজস্র তুলি আঁকতে থাকবে জীর্ণ মানুষের ইতিহাস। আরবল্লীর বুকে ইতিহাসের দোহাই দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে মৌচাক সদৃশ বুন্দীর রাজপাট।আর চম্বল নদী বিভাজিকা টেনেই যাবে।  
    
ধূসর প্লীহা- ধমনী- অঙ্গুলি সন্নিবেশে
অলৌকিক গল্পমালার ক্ষান্তিহীন হরফ কিছু
জমা থাকুক এভাবে অথবা যেভাবে 
অঙ্গচ্ছেদের শল্যাঘাতে তৃপ্তিহীন মাথা উঁচু।

রাভেলগ স্কেচবুক। গোটা ভ্রমণ বৃত্তান্ত স্কেচ করে খাতায় তুলে রাখেন অনেকেই। অনেকে শুধু ছবি আঁকেন, অনেকে আবার এলোমেলো ভাবে লেখা-রেখা সবটাই খাতায় তুলে রাখেন। বাংলা পত্রপত্রিকায় সচরাচর ট্রাভেলগ স্কেচবুক প্রকাশিত হয়না। বাংলা বই হিসেবে ট্রাভেলগ স্কেচবুক প্রকাশের ঘটনা বিরল। দেবাশীষ দেব ছাড়া আর কারও ট্রাভেলগ স্কেচবুক বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আসল গল্পটা হ'ল আমার 'বুন্দী' ভ্রমণের ট্রাভেলগ স্কেচবুক প্রকাশিত হয়েছে 'শব্দের মিছিল' পত্রিকায়। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা দরকার, আমি ট্রাভেলগ স্কেচবুকের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে পারিনি। খানিকটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই। কম্পিউটারের ছোঁয়া লেগেছে।
নীচে লিংক দিয়ে দিলাম। দেখে/পড়ে নিতে পারেন

www.sobdermichil.com/2015/11/shambo.html

Thursday, November 12, 2015

টেগোর হিলঃ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরদোর



টেগোর হিলঃ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরদোর
(আগেকার পোস্টের অংশবিশেষ)
পালিয়ে প্রেম করতে আসা শালিক পাখিদের কাছে অনবদ্য জায়গা এই টেগোর হিল। ঐতিহাসিক মোরাবাদি ময়দান পেছনে ফেলে যে রাস্তাটা সোজা সায়েন্সসিটির দিকে বেরিয়ে যাচ্ছে, সে রাস্তায় মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৩০০ মিটার উঁচু পাহাড়-টেগোর হিল
স্থানীয় রিকশা চালকের দল টেগোর হিলকে টাইগার হিলবলে চালিয়ে দেয়। তথাকথিত শিক্ষিত নাগরিক সমাজ অবিশ্যি টেগোর হিলকেগুরুদেও আর এন টেগোর’-এর বাড়ি বলে থাকেন। প্রথমদিকে আমায় এও শুনতে হয়েছে যে এখানে বসে টেগোর লিখেছিলেন গীতাঞ্জলী। তবে এসব ঢপের কেত্তন! পাহাড়ের বুকে যে সাদা বাড়িটা উঁকি দিচ্ছে, তার আসল মালিক হলেন কবিগুরুর বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্র নাথ ঠাকুর।এর উল্লেখ পাহাড়ের গায়েই আছে।

১৯০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে রাঁচিতে এসেছিলেন। তারপর দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এখানে। সেসময় স্থানীয় জমিদার হরিহর সিংহের থেকে কিনে নিয়েছিলেন এই বাড়ি।এ বাড়ির নাম ছিল শান্তি ধাম
গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে যখন বাঙালি বাবুরা রাঁচির লালপুরে তাদের কলোনি বানাতে শুরু করলেন, সে সময় মোরাবাদি ছিল তাদের বৈকালিক ভ্রমণের স্থান। পুরোন বইপত্তর ঘাঁটলে দেখা যায়, সে সময় বাঙালী বাবুর দল গরুর গাড়ি চেপে এ অঞ্চলে ঘুরতে আসতেন। কুস্তী দেখতেন মরাবাদি ময়দানের কাছে। সে সময় সবুজ প্যাস্টেল ঘঁষা পাথুরে এই পাহাড়ের নাম ছিল, ‘মোরাবাদি হিল। এসময় রাঁচিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী স্বামী বিশুদ্ধানন্দ এ অঞ্চলে ত্রাণের কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে এখানেই রামকৃষ্ণমিশনের শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। রামকৃষ্ণমিশনের সাথে সাধারণ বাঙালির যোগাযোগ অনেকদিনের। ফলত লালপুর অঞ্চল থেকে মোরাবাদি পর্যন্ত একটা গভীর যোগসূত্র স্থাপিত হয়। যা কালক্রমে টেগোর হিলকে স্থানীয় মানুষের কাছে এক অমোঘ টানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
১৯২৫সালে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত টেগোর হিলস্থানীয় মানুষের কাছে ব্ল্যাকলিস্টেড জায়গায় পরিণত হয়। কেননা, রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে টেগোর হিলস্থানীয় অপরাধীদের কাছে মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। এরপর ১৯৬৩ সালে ঠাকুর বংশের বংশজ পূর্ণিমা ঠাকুর মাত্র ২০,০০০ টাকার বিনিময়ে টেগোর হিলবেঁচে দেন।
বিপুল বাঙালি ভোটের অংককে মাথায় রেখে ঝাড়খণ্ড সরকার এই বাড়ির সংস্কার করেন। কিন্তু চূড়ান্ত উদাসীনতার মলিন ছাপ এখনও বিদ্যমান।
তবুও টেগোর হিলআছে টেগোর হিলেই
মন খারাপ করা যে কোন বিকেলে টেগোর হিলের টঙ্গে বসে অথবা জ্যোতি ঠাকুরের ছাদ থেকে দিগন্ত বিস্তৃত শহরের বাড়িঘর, গাছপালা, টিলা, পুকুরের দিকে চেয়ে থাকলে কেমন ঘোর লাগে। একটা অদ্ভুত সুর খুঁজে পাওয়া যায়। বেঁচে থাকার সুর, ভাল থাকার সুর।