ছবির ভাষ্য। ভাষ্যের ছবি
দ্য
ইন্টেলেকচুয়াল
“এই শালা – কেমন আছিস?”- পেছনে চাইতেই একটু আঁতকে উঠলাম। চুল- দাড়ির জঙ্গলে মোড়া একখানা প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে। একটু ভাল করে দেখে নিলাম। এ যে আমাদের বিষ্টু! আমাদের সাথে একই স্কুলে পড়ত। মোটেই দুষ্টু ছেলে ছিলনা। তবে লেখাপড়ায় খুব একটা...। (বুদ্ধিমানের জন্য তিনটে ডট-ই কাফি)।
আমি একটু হাসার চেষ্টা করে দেখলাম।... বুঝলাম ঠিক হাসি
আসছে না। আমি কী ঘাবড়ে গিয়েছি? আসলে বিষ্টুকে এই রূপে কখনো আশা করি নি।
-
তোর
খবর কী? শুনলাম ব্যাঙ্কে জব করছিস... ফুল সংসারী!!!
কী বলব বুঝে না পেয়ে মৃদু হাসার চেষ্টা করলাম। তারপর
আমতা আমতা করে বললাম, ‘ওই চলে যাচ্ছে, বেঁচে আছি’।
-
বেঁচে
তো ছাগলও থাকে। কেমন আছিস বল?
আমি তো থ- যে
ছেলে পুঁই শাকের মতো নেতিয়ে থাকত, সে হটাৎ শামিতাভের টোনে কথা বলছে!
জিজ্ঞেস করলাম, “ তোর খবর কী”?
-
কবিতায়
জেগে আছি, বিষণ্ণ তারার মতো।
-
কী?
যে ছেলে একদিন আমার খাতা টুকে বাংলায় তেত্রিশ পেত, সে
এখন কবি! ভাবলাম হতেও পারে, লিটারেচার নিয়ে পড়েছে হয়তো। দিমাগ কি বাত্তি জ্বলে
উঠল। না, ও তো পলিটিকাল সায়েন্স নিয়ে পড়ত। তারপর ডিসটেন্সে সোসিওলজিতে মাস্টার্স
করেছে।
-
হাবার
মতো কী ভাবছিস?
-
তেমন
কিছু না।
তখনই সুমন এসে বলল, “ দু’ বোতল কোল্ডড্রিংক দেব দাদা!”
কী !!! ভূত দেখার মতো আঁতকে উঠল বিষ্টু- “ চক্রান্ত!
পুঁজিবাদীদের চক্রান্ত”।
এবার আমি টাল খেলাম। এই বাজারে সি পি এম করছে? অগত্যা
জিজ্ঞেস করতেই হ’ল।
উত্তরে যেটা শুনলাম, সেটা আরও ঠাঁটানো শব্দ।
-
ধুস!
ওরা নাথিং বাট সোশাল ডেমোক্র্যাট। সামনে ওসব ভান করে।
তাল সমলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, “ কোল্ডড্রিংক খাবি?”
-
তাহলে
একটা গল্প বলি। ১৯৬৯ নাগাদ জাম্বিয়াতে একটা সার্ভে করে দেখা যায়, সেখানকার প্রায়
সব শিশুই অপুষ্টির শিকার। এরপর এর কারণ খুঁজতে আরও একটা সার্ভে করা হয়। তার
রিপোর্ট ভয়ঙ্কর। আসলে
অ্যাড
দেখে দেখে ওখানের মায়েদের
ধারণা
হয়েছিল, ‘কোক’ আর ‘ফান্টা’র মধ্যে আছে দারুণ
জীবনশক্তি।
এসব
পানীয় অ্যাডের হিরোদের
মতো শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত করে তুলবে তাদের সন্তানদের। সরকার অতিমাত্রায়
ঠাণ্ডা পানীয় সেবনকারী ছেলেমেয়েদের উপর সমীক্ষা করে দেখে যে এরা সকলে
অপুষ্টিতে ভুগছে। এরপর জাম্বিয়াতে
‘কোক’ আর ‘ফান্টা’র অ্যাড বন্ধ হয়।... সবটাই
বিজ্ঞাপনী চটক।
এরপর ধর্ম-জিরাফ, বি পি এল- আই পি এল, কবিতা-সবিতা
প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে গেল।
আমার বুঝতে বাকি রইল না, এ বান্দা সব বিষয়ে বিচরণ করার
ক্ষমতা রাখে। অতএব ‘ছুটলে কথা থামায় কে?”
পৃথিবীর সব এনার্জি রিনিউয়েবল এনার্জি নয়। বিষ্টুর তো
নয়ই। তাই বিষ্টুকে থামতেই হ’ল। এবার একটা অদ্ভুত আবদার করল, “ এতক্ষণ বকে বকে গলা
ধরে এল। একটু ঠান্ডা পাওয়া গেলে মন্দ হয়না”।
অতএব দু’বোতল ঠাণ্ডা পানীয় অর্ডার করা হ’ল।
-
বিষ্টু
,একটা প্রশ্ন করব?
-
আলবাত
করবি !
-
তুই
কী করিস?
-
ইন্টেলেকচুয়াল
।
-
না...
মানে পেশা’র কথা বলছি।
-
এটা
পেশা হতে পারেনা? আমি এখন পার্ট টাইমার। ফেসবুকে প্র্যাকটিস চালাচ্ছি। আশা করছি...
এক বছরের মধ্যে ফুল টাইমার হয়ে যাব। মানে পার্মানেন্ট জবের মতো। এক্কেবারে সিকিওর
জব।
কয়েকটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরছিল। কিন্তু সাহস হ’ল না। অতএব
মুখ বন্ধ।
হটাৎ একটা জরুরী ফোন আসায় বিষ্টু চলে গেল।একটা প্রতিবাদ
মিছিল আছে। আমি তাকিয়ে রইলাম হাঁ করে। বিষ্টুর হেঁটে যাওয়া দেখছি। ওটা আর যাই হোক,
হাঁটা নয়। একেই বলে ‘বিচরণ করা’।
আমি মুখ বন্ধ করে বসে আছি। তখনই বোধদয় হ’ল। মুখবন্ধ, প্রস্তাবনা, নান্দীমুখ, গৌরচন্দ্রিকা... কায়দা ছাড়া কিছু নয়। কায়দাটা যারা রপ্ত করতে পারে, তারাই ইন্টেলেকচুয়াল।
বিধিসম্মত সতর্কীকরণঃ এই কার্টুনটি আঁকার কয়েকদিন আগে,
আমার হাতে আসে ‘আহসান হাবীব’-এর একটি বই ‘সুপার ডুপার ইলাস্ট্রেটেড জোকস’। এই বইয়ে
এই ধরণের একটি কার্টুন আছে। বুদ্ধিমান পাঠক ভেবে নিতেই পারেন, ‘ইন্সপায়ারড
বাই আহসান হাবীব’।
তাতে আমার কিস্যু যায় আসে না।
কেননা, এটাই সত্য।
এক্ষেত্রে কার্টুনের রেখা একেবারেই আলাদা । আর
লেখা? তুলে দিচ্ছি। লাভ আপনাদের... এক ঢিলে দুই পাখি মারা হ’ল। আহসান হাবীবের
বই থেকে-
প্রথম ব্যক্তি- বুঝলি আমার মনটা মুক্ত আকাশের মতো খোলা
দ্বিতীয় ব্যক্তি- বেশি খোলা দেখেই ময়লা জমেছে
%2B-%2BCopy%2B-%2BCopy%2B-%2BCopy%2B-%2BCopy.jpg)