সাতপুরা পাহাড়ের গ্রামে গ্রামে ঘুরে
বেড়ানোটা আর কষ্টসাধ্য নয়। রাত ফুরোলেই জলগাঁও ফিরে আসার হাতছানি। এ গ্রামে (
মালদা) এটাই শেষ রাত। বিনোদ পাওয়ারা’র সাথে শুয়ে আছি সীমাহীন অন্ধকারের তলায়।
পাহাড়ের কোলে মাড়ুয়ার খড় বিছিয়ে বিছানা তৈরি হয়েছে।
![]() |
| মহুয়া ফল শুকিয়ে রাখা হচ্ছে |
তার উপরে পেতে দেওয়া হয়েছিল শতচ্ছিন্ন
চাদর। আকাশে চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে। ঝিরিঝিরি জোছনা ঝরে পড়ছে অবিরাম। আমি চোখ
খোলার চেষ্টা করি।বিন্দু বিন্দু জোছনার ধারা চোখের পাতায় ঝরে পড়ছে। আমার চোখ ভারী
হয়েআসে।
মালদা থেকে ঘণ্টা চারেক পায়ে হাঁটলেই
পাহাড়ের আরও উপরে একটা গ্রাম আছে, কেদলি। ওখানে ভিল উপজাতির লোকেরা থাকে।
বলাবাহুল্য, দু’তিন দিন আগে ওখানেও ডেরা বেঁধেছিলাম। বাদনু ভিল আমাকে জোর করে
মহুয়ার ফল হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। আধাখ্যাচড়া হিন্দিতে যে কথাটা বলেছিল, তার
মর্মার্থ- ‘এই পবিত্র ফল আমাদের কথা তোমায় ভুলতে দেবে না’।
এরপর আরও তিন বছর কেটে গেল। এসব স্মৃতিরা এখন গল্প ছাড়া কিছু নয়।
এরপর আরও তিন বছর কেটে গেল। এসব স্মৃতিরা এখন গল্প ছাড়া কিছু নয়।
সেদিন নাগের
আবদারে শুয়োরের মাংস খেতে সুরেশদের বাড়ি গিয়েছিলাম। বর্ষার বাতাসে তীব্র গন্ধ ভেসে
এল। এ গন্ধ আমার বহুপরিচিত। রুদ্র কতগুলো ফল দেখিয়ে বলল, ‘চিনতে পারলে?’ আমি আমতা
আমতা করছিলাম।
এরা সেই
পবিত্র ফল, যারা অনেক দিনের পুরনো হলদেটে স্মৃতিদের উস্কে দেয়। বাদনু একথাই তো
বলেছিল। শেষ বিকেলের ভেজা আলোয় এই তীব্র বনজ ঘ্রাণ মিশে চারপাশে একটা অপার্থিব
মাদকতা তৈরি করেছে। অনেকটা সাতপুরা পাহাড়ের কেদলি গ্রামের মত।
অজস্র বিষণ্ণ
মুখের ভিড়ে আমার সন্ধ্যা আরও বিষণ্ণ হয়ে ওঠে... সাতপুরা পাহাড়ের ঢালে অনেক গুলো
বিষণ্ণ সন্ধ্যা আমি ফেলে এসেছি।
![]() |
| 'খরা দাও ঈশ্বর'- মালদা গ্রামের খণ্ডচিত্র |
মহারাষ্ট্রের উপজাতি
অধ্যুষিত জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম নন্দুরবার। এই জেলার নানা প্রান্তে ক্ষেত্র
সমীক্ষার কাজে ঘুরে বেড়িয়েছি এক মাস। ২০০২ সালে প্রকাশিত একটি সূত্র জানাচ্ছে এ
অঞ্চলের ১৪৮টি পরিবারের ১৫৩ টি শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গিয়েছে শেষ একবছরে।
আমি যে সময়ের কথা বলছি সেটা ২০১১। পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। একেকটা গ্রামে
প্রায় ১০০% মানুষের জমি মহাজনের কাছে বন্ধক। লুকিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে পুরুষরা।
কাছেই গুজরাট।
![]() |
| সাতপুরা পাহাড়ের কোলে... |
গ্রামের নারী-পুরুষ সেখানে দিন মজুরের কাজ নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
গ্রামে শুধু বৃদ্ধ আর শিশুরা রয়ে গিয়েছে। সরকারি কর্মকাণ্ড যেখানে স্তব্ধ, সেখানে
নতুনভাবে সব শুরুর আহ্বান জানালেন নীলিমা মিশ্র। ইনি ২০১২ সালে রমণ ম্যাগসেসাই
(এশিয়ার নোবেল) পান। পদ্মশ্রী পেলেন ২০১৩ তে। এঁর সাথে কাজ করার বিরল অভিজ্ঞতা
হয়েছে এই সময়।
Nileema Mishra, Harish Hande win Magsaysay award




No comments:
Post a Comment