জাহেরথান অথবা
সারহুলি মন্দির
স্মরণাতীত কাল থেকেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অজস্র আদিম জনজাতি প্রকৃতি আর প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষক হিসেবে কাজ করে চলেছে। চিরায়ত পূজাপার্বণ, আরাধনা তাদের সংস্কৃতির সাথে প্রকৃতির যোগাযোগ সুদৃঢ় করেছে। মানুষ তার বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত পূরণের জন্য বারবার হাত পেতেছে প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতির সাথে সামাজিক সংযোগ ক্রমে অর্থনৈতিক লেনদেনের ব্যাল্যান্সশিট হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পায়ন আর তার স্বাভাবিক ফলশ্রুতি হিসেবে ক্রমে ধ্বংস হয়েছে অরণ্যানী। এসব কথা অনেকেরই জানা। তবে যে কথা অনেকেই জানিনা, তা হ’ল – এখনও আদিম জনজাতির মানুষেরা তাঁদের সনাতন সংস্কৃতি রক্ষার ছুতোয় বাঁচিয়ে রেখেছে আমদের বনভূমি।
একদশকের কিছু আগে ভারত সরকার “The Biological Diversity Act 2002”-এর মাধ্যমে বনভূমি এবং বনজ সম্পদ রক্ষার যে দায়িত্ব নিয়েছেন, তার ঢের আগে থেকেই সংরক্ষিত বনভুমির ধারণা আদিবাসী সমাজে প্রচলিত। এর সবথেকে ভাল উদাহরণ হ’ল- বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা আদিবাসীদের অজস্র পবিত্র আরাধনাস্থল (sacred groves)।
সাঁওতাল সমাজে তাঁদের পবিত্র আরাধনাস্থল ‘জাহের থান’ নামে পরিচিত। সাধারণত বনের মাঝে বা গ্রামের সীমানায় থাকে এই ‘জাহেরথান’। এখানে অন্তত ৩০-৩৫টি শাল গাছ (Shoria robusta) থাকা আবশ্যক। একই সারিতে থাকা তিনটি শাল গাছের তলায় একটি করে পাথর পোঁতা থাকে। এরা তাঁদের মহান বোঙ্গা বা ঈশ্বরের প্রতীক। প্রথম পাথরটি মহান ‘জাহের’-এর উদ্দেশ্যে পোঁতা থাকে। অন্য দুটি পাথর যথাক্রমে- মারাং বুরু তুর্ক এবং মুরুকুকে প্রতিভাত করে। এদের কাছেই আসন গাছের তলায় পরগনা বোঙ্গা অধিষ্ঠান করেন। এছাড়াও মহুয়া (Madhuca indica) গাছের তলায় থাকেন গসাইন (এই পবিত্র স্থানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী)।
লোকাচার অনুযায়ী ‘জাহের’ এই পবিত্রস্থানে আরাধনার অধিকার দিয়েছেন কাদেম নায়েক (পুরোহিত)কে। এর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে অজস্র অলৌকিক গল্প আর কিংবদন্তী। ফলত এখানে কেউ গাছ কাঁটা’র কথা ভাবতেই পারেনা। এভাবেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাঁওতালরা বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁদের পবিত্র বনভূমি।
‘Joint forest management Act’ বা অন্যান্য বনসংরক্ষণ কর্মসূচীর যথাযথ রুপায়ন ‘Community Based Approach’ ছাড়া অসম্ভব। কেননা, বনকে এঁদের থেকে কেউ বেশী চেনে না, জানে না। যে শ্রদ্ধায় এঁরা বনভূমিকে আগলে রেখেছেন, তা বহিরাগত বনকর্মীদের পক্ষে অসম্ভব।
স্মরণাতীত কাল থেকেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অজস্র আদিম জনজাতি প্রকৃতি আর প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষক হিসেবে কাজ করে চলেছে। চিরায়ত পূজাপার্বণ, আরাধনা তাদের সংস্কৃতির সাথে প্রকৃতির যোগাযোগ সুদৃঢ় করেছে। মানুষ তার বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত পূরণের জন্য বারবার হাত পেতেছে প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতির সাথে সামাজিক সংযোগ ক্রমে অর্থনৈতিক লেনদেনের ব্যাল্যান্সশিট হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পায়ন আর তার স্বাভাবিক ফলশ্রুতি হিসেবে ক্রমে ধ্বংস হয়েছে অরণ্যানী। এসব কথা অনেকেরই জানা। তবে যে কথা অনেকেই জানিনা, তা হ’ল – এখনও আদিম জনজাতির মানুষেরা তাঁদের সনাতন সংস্কৃতি রক্ষার ছুতোয় বাঁচিয়ে রেখেছে আমদের বনভূমি।
একদশকের কিছু আগে ভারত সরকার “The Biological Diversity Act 2002”-এর মাধ্যমে বনভূমি এবং বনজ সম্পদ রক্ষার যে দায়িত্ব নিয়েছেন, তার ঢের আগে থেকেই সংরক্ষিত বনভুমির ধারণা আদিবাসী সমাজে প্রচলিত। এর সবথেকে ভাল উদাহরণ হ’ল- বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা আদিবাসীদের অজস্র পবিত্র আরাধনাস্থল (sacred groves)।
সাঁওতাল সমাজে তাঁদের পবিত্র আরাধনাস্থল ‘জাহের থান’ নামে পরিচিত। সাধারণত বনের মাঝে বা গ্রামের সীমানায় থাকে এই ‘জাহেরথান’। এখানে অন্তত ৩০-৩৫টি শাল গাছ (Shoria robusta) থাকা আবশ্যক। একই সারিতে থাকা তিনটি শাল গাছের তলায় একটি করে পাথর পোঁতা থাকে। এরা তাঁদের মহান বোঙ্গা বা ঈশ্বরের প্রতীক। প্রথম পাথরটি মহান ‘জাহের’-এর উদ্দেশ্যে পোঁতা থাকে। অন্য দুটি পাথর যথাক্রমে- মারাং বুরু তুর্ক এবং মুরুকুকে প্রতিভাত করে। এদের কাছেই আসন গাছের তলায় পরগনা বোঙ্গা অধিষ্ঠান করেন। এছাড়াও মহুয়া (Madhuca indica) গাছের তলায় থাকেন গসাইন (এই পবিত্র স্থানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী)।
লোকাচার অনুযায়ী ‘জাহের’ এই পবিত্রস্থানে আরাধনার অধিকার দিয়েছেন কাদেম নায়েক (পুরোহিত)কে। এর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে অজস্র অলৌকিক গল্প আর কিংবদন্তী। ফলত এখানে কেউ গাছ কাঁটা’র কথা ভাবতেই পারেনা। এভাবেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাঁওতালরা বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁদের পবিত্র বনভূমি।
‘Joint forest management Act’ বা অন্যান্য বনসংরক্ষণ কর্মসূচীর যথাযথ রুপায়ন ‘Community Based Approach’ ছাড়া অসম্ভব। কেননা, বনকে এঁদের থেকে কেউ বেশী চেনে না, জানে না। যে শ্রদ্ধায় এঁরা বনভূমিকে আগলে রেখেছেন, তা বহিরাগত বনকর্মীদের পক্ষে অসম্ভব।
সাথের ছবি প্রসঙ্গেঃ কর্মসূত্রে ঝাড়খণ্ড, পুরুলিয়া, সাঁওতাল পরগণা, মেদিনীপুরে বেশকিছু ‘জাহেরথান’
চোখে পড়েছে। অনুমতি নিয়ে ভেতরে যাওয়ার সৌভাগ্যও হয়েছে। সাথের ছবিটি ঝাড়খণ্ডের সালদোহা
গ্রামে তোলা হয়েছে। একটু ভাল করে দেখলে বুঝতে পারবেন, এখানে একটা বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া
হয়েছে। ‘শৌচ করা বারণ’।
আসলে ‘ইকো-ট্যুরিসম’-এর নামে শহুরে মানুষের জলসাক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল কাছেই। এটা তারই ফলাফল। যাইহোক, গ্রামের মানুষের বিরোধিতায় জলসা বন্ধ হয়েছে!
আসলে ‘ইকো-ট্যুরিসম’-এর নামে শহুরে মানুষের জলসাক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল কাছেই। এটা তারই ফলাফল। যাইহোক, গ্রামের মানুষের বিরোধিতায় জলসা বন্ধ হয়েছে!

No comments:
Post a Comment