খাইসে! ডাইনো ফের আইসে
ছেলেবেলায় একটা মজার গল্প শুনেছিলাম। গল্পটা এরকম- গ্রাম থেকে রমাকান্ত প্রথমবার কলকাতা শহরে এসেছে।এখানে তার জিগরি দোস্ত নেপাল মোহন একটা মেস ভাড়া নিয়ে থাকে। শহরের গোলকধাঁধায় লাট্টু’র মত চোখ আর মাথা ঘুরছে রমাকান্তর। এখানে না এলে এসব বিশ্বাস করা কঠিন।তবে বিস্ময়ের ঝটকা এখনও বাকি আছে। রবিবার নেপালের অফিস বন্ধ থাকে। অতএব সিনেমা। সিনেমা হলের লাইন দেখে মাথা খারাপ হবার জোগাড়। রমাকান্ত’র গ্রামে রেশনের দোকানে এর থেকে কম লোকের জটলা হয়। অবশেষে সিনেমা শুরু হল। সাদা পর্দায় ভেসে উঠল কালো ধোঁয়ার চাঙড়। একটা শব্দ ভেসে আসছে। এ শব্দ রমাকান্ত’র চেনা। রেলগাড়ির শব্দ।এরপর পর্দা জুড়ে একটা আস্ত ট্রেন ভেসে ওঠে। ক্রমাগত এগিয়ে আসতে থাকে রমাকান্ত’র দিকে। রমাকান্ত একবার নেপালের দিকে চাইল। নেপাল হা করে ট্রেনের দিকে তাকিয়ে আছে। রমাকান্ত ফিসফিস করে নেপালকে বলল, ‘হা করে দেখছিস কী? এরপর তো ট্রেনের তলায় প্রাণ যাবে। এখনও সময় আছে, দৌড় লাগা…’।
প্রথমবার ‘জুরাসিক পার্ক’ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা এরকমই ছিল। ১৯৯৩ সাল। আমার বয়স তখন পাঁচ। এটাই আমার দেখা প্রথম সিনেমা। এরপর একই গল্প নিয়ে অজস্র হাবিজাবি তৈরি করেছে হলিউড।
এসব শুনেই নাক সরসর করছে, তাইতো? কোথায় ফেসবুকে ঝেড়ে পাণ্ডিত্য দেখানো আমরা গঅদার, ফেলিনি, লুই বনুয়েল, বার্গম্যান কপচাব, অথবা নিদেন পক্ষে জন্মদিনে শনি পুজোর সিন্নি’র মত চখে দেখব ঋত্বিক, মৃণালকে- তা না ব্যাটা ‘জুরাসিক পার্ক’ নিয়ে পড়েছে। সাবস্ট্যান্ডার্ড ডাইনো একটা! যাই হোক, ভয়ানক পেট কুড়কুড় করছে। বিলো দ্য মেরিট সিনেমা দেখে একটা ঘোরের মধ্যে আছি। শুরুতেই বলেছি, ‘জুরাসিক পার্ক’ আমার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল। এটাই আমার দেখা প্রথম সিনেমা। সমস্ত উচ্ছ্বাসের বদহজম হবার আগে কয়েক লাইন কেত্তন গেয়ে নি।
মাইকেল ক্রিকটনের ডাইনোসর বিষয়ক উপন্যাসগুলোর গপ্প নিয়ে বাইশ বছর আগে স্টিভেন স্পিলবার্গ বানিয়েছিলেন ‘জুরাসিক পার্ক’। এরপর এই সিরিজের আরও দু’টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু স্বাদে-গন্ধে ‘জুরাসিক পার্ক’-এর ধারের কাছে কেউ যেতে পারেনি। মারকাটারি গ্রাফিক্স- অ্যানিমেশন, ভগভগে ডাইনো সমাজ, একটা দুষ্টু লোক, কয়েকজন আম পাবলিক (যারা অচিরেই ডাইনোসরের ভোজ্য), অসম সাহসী নায়ক আর তাঁর ডানা কাটা পরী সব শেষে হাড় জ্বালানো মারপিট- এসব এই সিরিজের মূল প্রতিপাদ্য। ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ও ব্যতিক্রম নয়। ইত্যকার জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন আর ভার্চুয়াল দুনিয়ার কূটকাচালি। তাই বাইশ বছর আগে যাকে বাস্তব মনে হয়েছে, এখন পুঁচকে খোকনের কাছেও সেটা নেহাতই পুতুল নাচ। এটাই ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সিনেমার সংলাপেও এই আশংকা’র কথা ঘুরে ফিরে এসেছে। "Nobody is excited to see a dinosaur anymore" আরও ভয় দরকার। পরিস্থিতির চাপেই এখানে এসেছে জেনেটিকালি মডিফায়েড ডাইনো।
নায়ক অয়াওয়েন ( ক্রিস প্যাট) একজন ডাইনো ট্রেনার। তার পোষ্য ডাইনোদের আবার নামও আছে। বেশ মজার না! এর মাঝে ডাইনোসরের মাধ্যমে যুদ্ধ জয়ের কথা বলা হয়েছে ( লাদেনের ডেরায় এক দেড়টা ডাইনো ঢুকিয়ে দিলে কেমন মজা হত!)। ফুটফুটে ছেলে সিমকিন্সের অভিনয় ভাল লাগবে। গল্প মোটামুটি একই আছে। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে জম্পেশ কিছু জি এম ডাইনো তৈরি করা হয়েছে। এখনও ভয় খাইয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ও হ্যাঁ, ‘জুরাসিক পার্ক’-এর জন হ্যামন্ড (রিচার্ড আটেনবরা)-এর কথা ঘুরেফিরে এসেছে। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে স্যাম (ইরফান খান) পর্দা জুড়ে রয়েছেন। একজন এদেশি অভিনেতাকে এতক্ষণ ধরে মূলস্রোতের হলিউডি সিনেমায় সচরাচর দেখা যায় না। অতএব আপনি গর্বিত ভারতবাসী। এছাড়া সবটাই চেনা ছকে বাঁধা।
তবে ডাইনো দিয়ে এখনও মনোরঞ্জন সম্ভব। কেননা, পরিচালক ট্রেভরো জানেন, "We want to be thrilled" । ও হ্যাঁ, স্পিলবার্গ এই সিনেমার পরিচালক নন, এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার ।
********************************************************
ও হ্যাঁ কার্টুনটা অনুপ্রানিত। মূল কার্টুনের ছবি দেওয়া গেল না।
ছেলেবেলায় একটা মজার গল্প শুনেছিলাম। গল্পটা এরকম- গ্রাম থেকে রমাকান্ত প্রথমবার কলকাতা শহরে এসেছে।এখানে তার জিগরি দোস্ত নেপাল মোহন একটা মেস ভাড়া নিয়ে থাকে। শহরের গোলকধাঁধায় লাট্টু’র মত চোখ আর মাথা ঘুরছে রমাকান্তর। এখানে না এলে এসব বিশ্বাস করা কঠিন।তবে বিস্ময়ের ঝটকা এখনও বাকি আছে। রবিবার নেপালের অফিস বন্ধ থাকে। অতএব সিনেমা। সিনেমা হলের লাইন দেখে মাথা খারাপ হবার জোগাড়। রমাকান্ত’র গ্রামে রেশনের দোকানে এর থেকে কম লোকের জটলা হয়। অবশেষে সিনেমা শুরু হল। সাদা পর্দায় ভেসে উঠল কালো ধোঁয়ার চাঙড়। একটা শব্দ ভেসে আসছে। এ শব্দ রমাকান্ত’র চেনা। রেলগাড়ির শব্দ।এরপর পর্দা জুড়ে একটা আস্ত ট্রেন ভেসে ওঠে। ক্রমাগত এগিয়ে আসতে থাকে রমাকান্ত’র দিকে। রমাকান্ত একবার নেপালের দিকে চাইল। নেপাল হা করে ট্রেনের দিকে তাকিয়ে আছে। রমাকান্ত ফিসফিস করে নেপালকে বলল, ‘হা করে দেখছিস কী? এরপর তো ট্রেনের তলায় প্রাণ যাবে। এখনও সময় আছে, দৌড় লাগা…’।
প্রথমবার ‘জুরাসিক পার্ক’ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা এরকমই ছিল। ১৯৯৩ সাল। আমার বয়স তখন পাঁচ। এটাই আমার দেখা প্রথম সিনেমা। এরপর একই গল্প নিয়ে অজস্র হাবিজাবি তৈরি করেছে হলিউড।
এসব শুনেই নাক সরসর করছে, তাইতো? কোথায় ফেসবুকে ঝেড়ে পাণ্ডিত্য দেখানো আমরা গঅদার, ফেলিনি, লুই বনুয়েল, বার্গম্যান কপচাব, অথবা নিদেন পক্ষে জন্মদিনে শনি পুজোর সিন্নি’র মত চখে দেখব ঋত্বিক, মৃণালকে- তা না ব্যাটা ‘জুরাসিক পার্ক’ নিয়ে পড়েছে। সাবস্ট্যান্ডার্ড ডাইনো একটা! যাই হোক, ভয়ানক পেট কুড়কুড় করছে। বিলো দ্য মেরিট সিনেমা দেখে একটা ঘোরের মধ্যে আছি। শুরুতেই বলেছি, ‘জুরাসিক পার্ক’ আমার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল। এটাই আমার দেখা প্রথম সিনেমা। সমস্ত উচ্ছ্বাসের বদহজম হবার আগে কয়েক লাইন কেত্তন গেয়ে নি।
মাইকেল ক্রিকটনের ডাইনোসর বিষয়ক উপন্যাসগুলোর গপ্প নিয়ে বাইশ বছর আগে স্টিভেন স্পিলবার্গ বানিয়েছিলেন ‘জুরাসিক পার্ক’। এরপর এই সিরিজের আরও দু’টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু স্বাদে-গন্ধে ‘জুরাসিক পার্ক’-এর ধারের কাছে কেউ যেতে পারেনি। মারকাটারি গ্রাফিক্স- অ্যানিমেশন, ভগভগে ডাইনো সমাজ, একটা দুষ্টু লোক, কয়েকজন আম পাবলিক (যারা অচিরেই ডাইনোসরের ভোজ্য), অসম সাহসী নায়ক আর তাঁর ডানা কাটা পরী সব শেষে হাড় জ্বালানো মারপিট- এসব এই সিরিজের মূল প্রতিপাদ্য। ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ও ব্যতিক্রম নয়। ইত্যকার জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন আর ভার্চুয়াল দুনিয়ার কূটকাচালি। তাই বাইশ বছর আগে যাকে বাস্তব মনে হয়েছে, এখন পুঁচকে খোকনের কাছেও সেটা নেহাতই পুতুল নাচ। এটাই ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সিনেমার সংলাপেও এই আশংকা’র কথা ঘুরে ফিরে এসেছে। "Nobody is excited to see a dinosaur anymore" আরও ভয় দরকার। পরিস্থিতির চাপেই এখানে এসেছে জেনেটিকালি মডিফায়েড ডাইনো।
নায়ক অয়াওয়েন ( ক্রিস প্যাট) একজন ডাইনো ট্রেনার। তার পোষ্য ডাইনোদের আবার নামও আছে। বেশ মজার না! এর মাঝে ডাইনোসরের মাধ্যমে যুদ্ধ জয়ের কথা বলা হয়েছে ( লাদেনের ডেরায় এক দেড়টা ডাইনো ঢুকিয়ে দিলে কেমন মজা হত!)। ফুটফুটে ছেলে সিমকিন্সের অভিনয় ভাল লাগবে। গল্প মোটামুটি একই আছে। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে জম্পেশ কিছু জি এম ডাইনো তৈরি করা হয়েছে। এখনও ভয় খাইয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ও হ্যাঁ, ‘জুরাসিক পার্ক’-এর জন হ্যামন্ড (রিচার্ড আটেনবরা)-এর কথা ঘুরেফিরে এসেছে। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে স্যাম (ইরফান খান) পর্দা জুড়ে রয়েছেন। একজন এদেশি অভিনেতাকে এতক্ষণ ধরে মূলস্রোতের হলিউডি সিনেমায় সচরাচর দেখা যায় না। অতএব আপনি গর্বিত ভারতবাসী। এছাড়া সবটাই চেনা ছকে বাঁধা।
তবে ডাইনো দিয়ে এখনও মনোরঞ্জন সম্ভব। কেননা, পরিচালক ট্রেভরো জানেন, "We want to be thrilled" । ও হ্যাঁ, স্পিলবার্গ এই সিনেমার পরিচালক নন, এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার ।
********************************************************
ও হ্যাঁ কার্টুনটা অনুপ্রানিত। মূল কার্টুনের ছবি দেওয়া গেল না।






