Content

Saturday, December 27, 2014

হাবিজাবি ২ঃ চিড়িয়াখানা

মুখবন্ধঃ নিন্দুকেরা বলে থাকেন, এ ছেলের কিস্যু হবেনা।  কোন প্রোডাক্টিভ কাজ নেই, সারাদিন হাবিজাবি করে বেড়ায়। নিন্দুকের মুখে ছাই চাপা দিয়ে আবার হাজির হাবিজাবি।
'হাবিজাবি'র সংজ্ঞা (উদাহরণ সহ)- নিজের অমূল্য সময় হেলায় নষ্ট করার জন্য আমরা যা যা করে থাকি, তা-ই 'হাবিজাবি'।
যেমন- আড্ডা দেওয়া, পি এন পি সি করা, ফেসবুকে মুখ গুঁজে থাকা, অংক খাতার পেছনে  আঁকিবুঁকি , কারণে-অকারণে  সমাজের পিণ্ডি চটকানো... এই গোত্রের সবকিছু। 
ছেলেবেলায় খাতার পেছনে হাবিজাবি আঁকতাম। স্বভাব চেঞ্জ হয়না। এখন সেমিনারে বসে বিভিন্ন বক্তার কার্টুন আঁকি। স্মার্ট ফোনের যুগে কাগজে আর রঙের খরচাও  বেঁচে যাচ্ছে।

চিড়িয়াখানা'র ইতিবৃত্তঃ  ঘুমোতে গিয়ে দেখি ঘুম পাচ্ছেনা। আমার বারান্দার কার্নিশে এক জোড়া পায়রা থাকে। কোন সাড়াশব্দ নেই ওদের। ঘুমিয়েছে সন্ধ্যে হতেই। একটা বিকট ডাক শোনা যাচ্ছে ... পেঁচা'র ডাক হতে পারে। মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম, কোন শব্দ নেই। শুধু দু'একটা গাড়ির আওয়াজ। এদিকে মোবাইলের স্ক্রিনে আঙুল ঘুরছে অবিরাম। হিস্টিরিয়া আক্রান্ত হয়েছি বোধহয়। রাত সাড়ে চারটা বাজে। এক ঘণ্টায়  কুড়ি-বাইশটা হাবিজাবি (এখানে সবগুলো দেওয়া হ'ল না) এঁকে ফেললাম ... হটাৎ বকম বকম শব্দ শোনা গেল। সুখী গৃহকোণে এখন ভোরবেলার তৎপরতা।এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়েছি মনে নেই।
'চিড়িয়াখানা'- নামকরণের সার্থকতাঃ দেখলেই বুঝতে পারবেন 


অপেক্ষা
নীড়





নিশিযাপন
সাধুপুরুষ
























জেগে আছি
বিশ্রাম




দ্য সাইলেন্ট স্প্রিং
মোরগের গল্প

কাকশিল্পী এবং...

ফাউঃ শঙ্কর স্যারের একটা ছড়ার অনুকরণে ...

             'হাওয়ায় কেমন দুলছে দেখ
             মোরগ ফুলের ঝুটি 
             শালিক দু'টি আচ্ছা পাজি 
              করছে খুনসুটি' 
              রাগ জমানো, মেঘ ভাঙানো 
              কামদুনিদের কালে 
               শালিক দু'টি আচ্ছা পাজি 
               প্রেমের কথা বলে ।। 
শালিক দুটি আচ্ছা পাজি



          


Thursday, December 25, 2014

উৎসবঃ বড়দিন



আলোর রাত

রাতটা বড় ছিল...
সন্ধ্যেটা কেটেছিল মিশনের ‘প্রভু যীশু’র পুজো দেখে। সেখানে অবাক কাণ্ড। গঙ্গাদা সান্তাক্লজ সেজে দিব্যি চকোলেট, কেক বিতরণ করছে। তারপর ‘কানহা’য় খেতে গেলাম। সেখানেই ঠিক হ’ল, রাতে চার্চে যাব। অতএব; দেড় কিস বাত কী? সাথে ক্রিসমাস কেক, কোল্ডড্রিঙ্কসের ক্যান, পুল ওভার, রুদ্র আর সৌরভ।
ঘুমকাতুরে বলে রাঁচি শহরটার বদনাম আছে।
গঙ্গাদাঃ সান্টা বুড়োর সাজে
তার উপর কনকনে শীত। রাস্তায় বেড়িয়ে অবাক হয়ে গেলাম। রাঁচি মেতে উঠেছে উৎসবে। মোড়ে মোড়ে ঝুলনের পুতুল সাজানোর মতো যীশুর জন্মদৃশ্যের রেপ্লিকা বসানো হয়েছে। তার সাথে চলছে ছোটনাগপুরী গান আর উদ্দাম নাচ।
শীতের রাতে এভাবে পথ হাঁটার একটা আলাদা মজা আছে। একটা গোপন শিহরণ শরীর মন জুড়ে খেলে বেড়াচ্ছে। এভাবেই হেঁটে চলেছি। কুয়াশার গন্ধ, রঙিন আলো, ক্রিসমাস ট্রি, রঙচঙে ঝালর – এসব
ততক্ষনে চোখ সওয়া হয়ে গিয়েছে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ পার হয়ে একটা চার্চে এসে পৌঁছুলাম। ঝলমলে আলো, লোকের ভিড় আর গির্জার ঘণ্টাধ্বনি একটা আবেশ তৈরি করেছে। সৌরভের আবদারে মোম কেনা হ’ল।
আবার হেঁটে চলেছি। বহুবাজারের কাছে তিনশ বছর বয়স্ক একটা গির্জা আছে। সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল। সেদিকেই চলেছি।
কয়েকটা ছেলে রাস্তায় জোর করে চা আর লাছ্ছা খাইয়ে দিল। উৎসবের রাত বলে কথা!
পৌঁছে দেখি এলাহি কারবার। পৃথিবীর সব আলো, সব রঙ এসে ভিড় করেছে এখানে। সোনালি ঝালর, ফুল, রঙ, আলো সব একসাথে গুলিয়ে একটা প্যালেটে ছড়িয়ে রাখলে, যে মায়াবী কলেবর জন্ম নেবে- তা যেন স্বচক্ষে দেখলাম। এরপর আবার গির্জার ঘণ্টা শোনা যায়। পাদ্রির সাদা পোশাক, চার্চের রেওয়াজ, ক্রিসমাস ক্যারোল আর ওল্ড টেস্টামেন্ট পাঠ... দেখতে দেখতে রাত পেরোচ্ছে।
এই আলো পেরিয়ে গাঢ় অন্ধকার। চার্চের বাইরে জমে থাকা অন্ধকারে ভিড় জমিয়েছে ভিখিরির দল। ওদেরও উৎসব। এই অন্ধকারে জমে ওঠা মেঘদল আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ চারদিকে। ফোনের স্ক্রিন লক খুলতেই ফিনকি দিয়ে আলো ছড়ায় ‘নিউস হান্ট’, ‘অসমে জঙ্গি হানায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭’।
সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল
অন্ধকারে জমে ওঠা মেঘদল

Sunday, December 21, 2014

টুকরো ভ্রমণ- ফিডার ক্যানেলের ধারে



একটা কাকতাড়ুয়া দিব্যি মিটিমিটি হাসছে

ফিডার ক্যানেলের ধারে
২০/১২/২০১৪, আলমপুর, মুর্শিদাবাদঃ
প্রীতম-নবীনদের বাড়িতে রাতটা বেজায় ভালো কাটল। হরেক খাবার, দুরন্ত আতিথেয়তা, তাসের আড্ডা, বাংলাদেশের ‘বই’ – এসব পেরিয়ে যখন ঘুমোতে গেলাম, তখন রাত আড়াইটা বাজে। চোখ মুদে আসার আগেই একটা জন্তুর ডাকে নড়েচড়ে বসলাম। দোতলার ছাদে তখন হিম ঝরা শীত। তবুও উঁকি ঝুঁকি মারলাম। পরদিন সকালে শুনেছিলাম, ‘ও কিছু না, শেয়ালের ডাক!’
সকাল সকাল (পরিচিতরা জানেন, আমার সকাল কখন হয়) এক পেট খেয়ে তবে বেরুনো গেল। শীতের সকাল জুড়ে কুয়াশার একটা গন্ধ লেগে থাকে। সে গন্ধ নাকে মুখে জড়িয়ে আমরা চললাম ফিডার ক্যানেল দেখতে।
‘ফিডার ক্যানেল’কে স্থানীয় লোকেরা বলে কাটা গঙ্গা। ২২৪৫ মিটার লম্বা রেল-বাস সেতু সমন্বিত ফারাক্কা ব্যারেজের কথা সকলের জানা। ছেলেবেলায় ফি বছর কলকাতায় আসতাম। সে সময় ট্রেনের দুলুনি উপেক্ষা করে জেগে থাকতাম শুধু ‘ফারাক্কা ব্রিজ’ দেখার আশায়। যাইহোক, ৩৮.৩৮ কিলোমিটার লম্বা ফিডার ক্যানেল শেষ হয়েছে এখানে। এই ক্যানেল ৪০,০০০ কিউসেক জল ধরে রাখে। চাঁদপুরের কাছে ফিডার ক্যানেল দেখে মনে হয়েছিল, কেউ যেন সুনিপুণভাবে গঙ্গা থেকে একটা সরলরেখা টেনে দিয়েছে।
গঙ্গা থেকে একটা সরলরেখা

চারদিকে কোন ব্যস্ততা নেই। মরা ভাগীরথীর তীরে বটের ছায়ায় ঢেকে আছে শ্মশানঘাট। নবীনের বাইক চলেছে ধুলো উড়িয়ে।
ক্যানেলের কাছে আসতেই দেখতে পেলাম পিলপিল করে লোক এসে ভিড় করছে নৌকোর কাছে। ছাগল, মানুষ, বাইক - সকলে একসাথে সাওয়ার হয়েছে। এর মধ্যে এক বৃদ্ধ মাঝি নোঙর খুলতে এসেছে। তাকে দেখেই নেড়ি কুকুরের দল হাভাতেপনা শুরু করে দিল। লোকটা ঝোলা থেকে পাউরুটি বের করে খেতে দিচ্ছে। এসব রোজকার গল্প।
ক্রমে বেলা বাড়ে। মেঘের কলেবর সরে গিয়ে পাকুড় গাছের ফাঁকে ফাঁকে এখন কয়েক ফালি রোদের ঝিলমিল। চারদিক কেমন পিকাসোর আঁকা ‘ন্যুড, লিভস অ্যান্ড বাস্ট’- এর মতো সরসরে রঙে ভরে যাচ্ছে। রঙচটা স্কুল বাড়ি, বাঁশ বনের ছায়া মাড়িয়ে আমরা হেঁটে চলেছি। স্যাঁতস্যাঁতে মাটির সোঁদা গন্ধ আর শ্যাওলা ঢাকা পুকুরের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়া- এসব অনুভূতিরা একসাথে মিলেমিশে একটা অসাড় মদকতা তৈরি করে। সব পেরিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত উজ্জ্বল হলুদ সরষে ক্ষেতের মাঝে মাঝে কয়েকটা সবুজ আমগাছ। খানিকটা পপুলার এগ্রো-ফরেস্ট্রি মডেলের মতো। আরও এগিয়ে গেলে দিগন্তরেখার কাছে একটা সদা ফিতে চোখে পড়ে। ওটা আসলে ভাগীরথী।
ক্ষেতের আল ধরে আমরা এগিয়ে চলেছি। হটাৎ মনে হ’ল, কে যেন আমাদের দেখছে। পেছন ফিরে দেখি- একটা কাকতাড়ুয়া দিব্যি মিটিমিটি হাসছে। ওর পায়ের তলায় মখমলের মতো সবুজ ধানক্ষেত।
পাউরুটি বের করে খেতে দিচ্ছে
দিগন্ত বিস্তৃত উজ্জ্বল হলুদ সরষে ক্ষেতে

 
ছাগল, মানুষ, বাইক - সকলে একসাথে সাওয়ার

Tuesday, December 16, 2014

হাবিজাবিঃ যেভাবে অজস্র সময় নষ্ট করেছি

নান্দীমুখঃ ছেলেবেলায় খাতার পেছনে হাবিজাবি আঁকতাম। স্বভাব চেঞ্জ হয়না। এখন সেমিনারে বসে বিভিন্ন বক্তার কার্টুন আঁকি। একটু আগে একটা ফোন এসেছিল... হাতের সামনে ছিল ল্যাপটপ আর মাউস। পাঁচ-সাত মিনিট কথা হয়েছিল। ল্যাপটপের পর্দায় চোখ পড়তেই দেখি ...। এভাবেই তৈরি হয় একেকটা 'হাবিজাবি'। নষ্ট হওয়া সময়ের দাস্তান...
***********************************************************************************





মেঘভাঙা আলো
রোদ জল বাতাস
একফালি আকাশ
আর যাকিছু ভালো

চাওয়া পাওয়ার পর
দাঁড়িয়ে থাকি খাদের কিনারে














ক্রমে ছোট হয়ে আসছে   
আমাদের শীতকাল,
পৃথিবী, জলতল আর পবিত্র পূর্ণিমা রাত।  
এভাবে বাঁচতে বাঁচতে দেখি
শীতঘুম নেই।







 


      

 যতবার ভেবেছি

একটা সুস্পষ্ট জ্যামিতিক কোণ সম্বলিত
জীবন ও জীবিকা বিষয়ক ছবি আঁকব
ততবার অস্থির রেখা আর অমীমাংসিত কিছু বৃত্ত
জমে জমে অলীক পৃথিবী জন্ম নেয় 




 






আমরা সাধারণত গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী
মাঝে মাঝে একটু সেকটু পা চেটে পরিষ্কার করি
লোকে ভাবে স্যানিটারি হ্যাবিট অথবা প্রতিবাদ











                                পরবর্তী পৃথিবীর জন্য রেখে গেলাম
                                একফালি পাথরের ঢেলা 










ঘুম ভাঙতে এখনো দেরি হয়নি 
এখনো সব স্মৃতি মলিন হয়নি
পিচুটি জমে আছে বিহ্বল চোখেমুখে
চোখ কচলে দেখে নিও
খালি পায়ে হেঁটে চলেছি  
















যেভাবে পেরিয়েছে দশ হাজার বছর
আমাদের ক্ষেত খামারের ইতিহাস
সেভাবে এখনো একসাথে আমরা যেন 
পবিত্র ধানক্ষেত আর পরের পৃথিবীর বীজতলা


















 


অদ্য শেষরজনী নয়
আমার বিশেষ তাড়া নেই













জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া
তাই ডাল-ভাত খাব।
মুসুর ডালকে বলাহয়- গরীবের মাংস
আমি একটা ছেলেভুলানো প্রবাদ জানি-
‘রতনে রতন চেনে...’














প্রিয়দর্শিনী; যে অনন্ত আকাশ, জল, পাহাড়, সোঁতা, মারাং বুরু’র গল্প আমাদের বহুকাল চেনা, সেসব গল্প নিয়ে বর্ণহীন, শব্দহীন, ভাষাহীন, জাতিচ্যুত একটা গান রচনা করলে কেমন হয়?

    
 





 সূর্যের আলোয় আলোকিত আমাদের বাগানের সমস্ত ফুল...
                              শ্রদ্ধাঞ্জলি 










অক্টোবর, ২০১৩


শীতের সকালে মনমরা আলো ফুটেছে সদ্য । রাঁচি শহরটা এমনিতেই ঘুমকাতুরে । সকাল ন’টা  নাগাদ চোখ কচলে জেগে ওঠে । আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে দশটা বেজে যায় । এইসব ফিডব্যাক আগেই সংগ্রহ করেছিলাম । কাটাটোলি মোড়ে সদ্য ঝাঁপ খুলেছে বেহারী পানওয়ালা । হটা চোখ কচলে দেখি বাংলায় লেখা পোস্টার – ‘ঝাড়খণ্ডের দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা দিতে হবে বাংলাকে’। লালপুরে বাঙালী আবাস আছে জানা ছিল, তবে এই পোস্টারটা একেবারে আনএক্সপেকটেড । শিবরাম চক্কোত্তি’র গপ্পে লালপুরের রেফারেন্স পাওয়া যায় । এসব হাবিজাবি পেরিয়ে করমটোলি চকে এসে যখন পছুঁলাম, তখন ঝলমলে শীতের রোদ আর শহুরে অটোর দাপাদাপি । আবার অটো ভাড়া করতে হবে । সারনা পরব চলছে এখন । তাই অটো কম । এরকম সিচুয়েশনে খুব রাগ ওঠে । বারবার নিজের শহরের রেফারেন্স টানতে ইচ্ছে করে । শীর্ষেন্দু’র একটা লেখায় পড়েছিলাম, ‘একদিকে প্রিয়জন আর উলটোপাশে প্রয়োজন’ !
মা পূজা'র নাচ

ভাড় মে যায়ে রিসার্চ ওয়ার্ক !
 কিন্তু একটা শহর যে কখন একজন অপরিচিত আগন্তুকের বুকে নিঃসাড়ে উঁকি দেয়, তা কে বলতে পারে । হটাত ধামসা মদলের নিনাদে চোখ কান খাড়া হয়ে যায় । এই শব্দ আমার বহু পরিচিত । শাল ফুলের মালা আর করম ফুলের টোপর শোভিত আদিবাসী রমণীরা রাস্তা পার হচ্ছে । রেডল্যাটেরাইট মাটির এই ঘ্রাণ অনেকদিন জমে আছে আমার নাকেএকটা  আস্ত শহরকে গ্রাস করেছে গেয়ো মাটির ঘ্রাণ । আমি দাঁড়িয়ে থাকি ঝালদা, জঙ্গলমহল আর বেলপাহাড়িয়ার আশ্চর্য পরিচিত ভালোলাগায়, ভালোবাসায় । ঠিক যেন ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’ এর মান্তাজ । অজস্র সাদাকালো ছবি ভিড় করে এই ‘কলকাতা’র স্যাটেলাইট’ শহরে ।  সেই প্রথম ভালোলাগা । লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইড !
   
 ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
(অনেকদিন আগে লেনিনকে নিয়ে একটা বাংলা কবিতা পড়েছিলাম। অনেকটা সেই কবিতাটির ধাঁচে লিখে ফেললাম। সাথের ছবিটিও তড়িঘড়ি এঁকে ফেললাম। অতএব...)
সীমাহীন
এটা একুশের মাস। বসন্ত জাগ্রত...সব গাছে রক্তিম পলাশ ফুটুক।ভাষারা ডানা মেলুক।

 একটা একুশ শহীদ মিনার, রক্ত পলাশে ঢাকা
একটা একুশ শহবাগ জুড়ে যৌবন রঙে আঁকা ।
একটা একুশ নগ্ন শরীর, কামদুনি যার নাম
একটা একুশ বৃহন্নলা, এই ডান এই বাম।
একটা একুশ মিনি স্কার্ট, নাচে ডিস্কো থেকে
একটা একুশ খিলখিলিয়ে বাংরেজী বকে।
একটা একুশ ঘাম মোছে আর ধানের ক্ষেতে ছোটে
একটা একুশ সকাল হয়ে রাতের শেষে ফোটে।
একটা একুশ বাউল গান, ট্রেনে ট্রেনে নাচে
একটা একুশ পদ্য বলে মুখসুদ্দি বেচে।
একটা একুশ দিন ভর শুধু রবি ঠাকুর জপে
একটা একুশ হিন্দি গান, পাড়ার মাচা কাঁপে।
একটা একুশ হাত বাড়ালে পায় না কারুর হাত

একটা একুশ মুচকি হাসে, সত্যি কর্কট জাত।
তবু হাজার একুশ বাঁচে গোটা দেশের বুকে
একুশ শুধু আমার ভাষা, আমার ভীরু মুখে।