নান্দীমুখঃ ছেলেবেলায় খাতার পেছনে হাবিজাবি আঁকতাম। স্বভাব চেঞ্জ হয়না। এখন সেমিনারে
বসে বিভিন্ন বক্তার কার্টুন আঁকি। একটু আগে একটা ফোন এসেছিল... হাতের সামনে
ছিল ল্যাপটপ আর মাউস। পাঁচ-সাত মিনিট কথা হয়েছিল। ল্যাপটপের পর্দায় চোখ
পড়তেই দেখি ...। এভাবেই তৈরি হয় একেকটা 'হাবিজাবি'। নষ্ট হওয়া সময়ের দাস্তান...
***********************************************************************************
মেঘভাঙা আলো
রোদ জল বাতাস
একফালি আকাশ
আর যাকিছু ভালো
চাওয়া পাওয়ার পর
দাঁড়িয়ে থাকি খাদের কিনারে
ক্রমে ছোট হয়ে আসছে
আমাদের শীতকাল,
পৃথিবী, জলতল আর পবিত্র পূর্ণিমা রাত।
এভাবে বাঁচতে বাঁচতে দেখি
শীতঘুম নেই।
যতবার ভেবেছি
একটা সুস্পষ্ট জ্যামিতিক কোণ সম্বলিত
জীবন ও জীবিকা বিষয়ক ছবি আঁকব
ততবার অস্থির রেখা আর অমীমাংসিত কিছু বৃত্ত
জমে জমে অলীক পৃথিবী জন্ম নেয়
আমরা সাধারণত গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী
মাঝে মাঝে একটু সেকটু পা চেটে পরিষ্কার করি
লোকে ভাবে স্যানিটারি হ্যাবিট অথবা প্রতিবাদ
পরবর্তী পৃথিবীর জন্য রেখে গেলাম
একফালি পাথরের ঢেলা
ঘুম ভাঙতে এখনো দেরি হয়নি
এখনো সব স্মৃতি মলিন হয়নি
পিচুটি জমে আছে বিহ্বল চোখেমুখে
চোখ কচলে দেখে নিও
খালি পায়ে হেঁটে চলেছি
যেভাবে পেরিয়েছে দশ হাজার বছর
আমাদের ক্ষেত খামারের ইতিহাস
সেভাবে এখনো একসাথে আমরা যেন
পবিত্র ধানক্ষেত আর পরের পৃথিবীর বীজতলা
অদ্য শেষরজনী নয়
আমার বিশেষ তাড়া নেই
জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া
তাই ডাল-ভাত খাব।
মুসুর ডালকে বলাহয়- গরীবের মাংস
আমি একটা ছেলেভুলানো প্রবাদ জানি-
‘রতনে রতন চেনে...’
প্রিয়দর্শিনী; যে অনন্ত আকাশ, জল, পাহাড়,
সোঁতা, মারাং বুরু’র গল্প আমাদের বহুকাল চেনা, সেসব গল্প নিয়ে বর্ণহীন, শব্দহীন, ভাষাহীন,
জাতিচ্যুত একটা গান রচনা করলে কেমন হয়?
সূর্যের আলোয় আলোকিত আমাদের বাগানের সমস্ত ফুল...
শ্রদ্ধাঞ্জলি
অক্টোবর, ২০১৩
শীতের সকালে মনমরা আলো ফুটেছে সদ্য । রাঁচি শহরটা এমনিতেই
ঘুমকাতুরে । সকাল ন’টা নাগাদ চোখ কচলে
জেগে ওঠে । আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে দশটা বেজে যায় । এইসব ফিডব্যাক আগেই সংগ্রহ
করেছিলাম । কাটাটোলি মোড়ে সদ্য ঝাঁপ খুলেছে বেহারী পানওয়ালা । হটাৎ চোখ কচলে দেখি
বাংলায় লেখা পোস্টার – ‘ঝাড়খণ্ডের দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা দিতে হবে বাংলাকে’।
লালপুরে বাঙালী আবাস আছে জানা ছিল, তবে এই পোস্টারটা একেবারে আনএক্সপেকটেড ।
শিবরাম চক্কোত্তি’র গপ্পে লালপুরের রেফারেন্স পাওয়া যায় । এসব হাবিজাবি পেরিয়ে
করমটোলি চকে এসে যখন পছুঁলাম, তখন ঝলমলে শীতের রোদ আর শহুরে অটোর দাপাদাপি । আবার
অটো ভাড়া করতে হবে । সারনা পরব চলছে এখন । তাই অটো কম । এরকম সিচুয়েশনে খুব রাগ
ওঠে । বারবার নিজের শহরের রেফারেন্স টানতে ইচ্ছে করে । শীর্ষেন্দু’র একটা লেখায়
পড়েছিলাম, ‘একদিকে প্রিয়জন আর উলটোপাশে প্রয়োজন’ !
 |
| করমা পূজা'র নাচ |
ভাড় মে যায়ে রিসার্চ ওয়ার্ক !
কিন্তু একটা শহর যে
কখন একজন অপরিচিত আগন্তুকের বুকে নিঃসাড়ে উঁকি দেয়, তা কে বলতে পারে । হটাত ধামসা
মদলের নিনাদে চোখ কান খাড়া হয়ে যায় । এই শব্দ আমার বহু পরিচিত । শাল ফুলের মালা আর
করম ফুলের টোপর শোভিত আদিবাসী রমণীরা রাস্তা পার হচ্ছে । রেডল্যাটেরাইট মাটির এই
ঘ্রাণ অনেকদিন জমে আছে আমার নাকে। একটা আস্ত শহরকে গ্রাস
করেছে গেয়ো মাটির ঘ্রাণ । আমি দাঁড়িয়ে থাকি ঝালদা, জঙ্গলমহল আর বেলপাহাড়িয়ার
আশ্চর্য পরিচিত ভালোলাগায়, ভালোবাসায় । ঠিক যেন ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’ এর মান্তাজ ।
অজস্র সাদাকালো ছবি ভিড় করে এই ‘কলকাতা’র স্যাটেলাইট’ শহরে । সেই প্রথম ভালোলাগা । লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইড !
ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
(অনেকদিন আগে লেনিনকে নিয়ে একটা বাংলা
কবিতা পড়েছিলাম। অনেকটা সেই কবিতাটির ধাঁচে লিখে ফেললাম। সাথের ছবিটিও
তড়িঘড়ি এঁকে ফেললাম। অতএব...)
 |
| সীমাহীন |
এটা একুশের মাস। বসন্ত জাগ্রত...সব গাছে রক্তিম পলাশ ফুটুক।ভাষারা ডানা মেলুক।
একটা একুশ শহীদ মিনার, রক্ত পলাশে ঢাকা
একটা একুশ শহবাগ জুড়ে যৌবন রঙে আঁকা ।
একটা একুশ নগ্ন শরীর, কামদুনি যার নাম
একটা একুশ বৃহন্নলা, এই ডান এই বাম।
একটা একুশ মিনি স্কার্ট, নাচে ডিস্কো থেকে
একটা একুশ খিলখিলিয়ে বাংরেজী বকে।
একটা একুশ ঘাম মোছে আর ধানের ক্ষেতে ছোটে
একটা একুশ সকাল হয়ে রাতের শেষে ফোটে।
একটা একুশ বাউল গান, ট্রেনে ট্রেনে নাচে
একটা একুশ পদ্য বলে মুখসুদ্দি বেচে।
একটা একুশ দিন ভর শুধু রবি ঠাকুর জপে
একটা একুশ হিন্দি গান, পাড়ার মাচা কাঁপে।
একটা একুশ হাত বাড়ালে পায় না কারুর হাত
একটা একুশ মুচকি হাসে, সত্যি কর্কট জাত।
তবু হাজার একুশ বাঁচে গোটা দেশের বুকে
একুশ শুধু আমার ভাষা, আমার ভীরু মুখে।