স্মৃ তি স ত্তা য় গু ল জা র
ছেলেবেলায় আমাদের একটা গান ছিল, ‘জঙ্গল
জঙ্গল পা চলা হে…’। আমরা যারা ৯০-এর শিশু-কিশোর, তাদের ছেলেবেলার সাথে সাদা-কালো
টিভি, শক্তিমান, মোগলী প্রভৃতি এসব ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে।‘মোগলী’ অ্যানিমেটেড
সিরিজের টাইটেল ট্র্যাক প্রভূত জনপ্রিয় ছিল আমাদের কাছে- ‘জঙ্গল জঙ্গল পা চলা
হে…’। দীর্ঘদিন আমার ধারণা ছিল, ‘জঙ্গল জঙ্গল পা চলা হে…’-এই গানটির মূল কবিতার
নাম ‘গুলজার’। ভুল ভেঙেছিল বাবা’র কথায়। ‘গুলজার’ কোন কবিতা নয়, একজন কবি’র ছদ্মনাম। আসল নাম সম্পূর্ণ (সমপূরণ)সিং।
আমাদের বাড়িতে অনেকদিন আগের গ্রামোফোন রেকর্ড ছিল। অনেক আগের গান বাজত।রবিঠাকুর, নজরুল-এর পাশাপাশি গণসংগীত, বেজু বাউরা, হেমন্ত কুমার, শ্যামল মিত্র, মুকেশ- এক অদ্ভুত সহাবস্থান। মাঝে মাঝে পিন ভেঙে যেত। সে সময় অনেক রেকর্ডের খাপে ‘গুলজার’-এর নাম দেখেছি। একটা গান বারবার শুনতে থাকলে তার সুর এমনি এমনিই বাজতে থাকে মনের ভেতর।আমারও সেরকম হ’ত। গানের কথা নিয়ে খুব একটা হেলদোল ছিল না। সে সময় আমাদের বাড়িতে টেপরেকর্ডারেও গান বাজত।
এরপর একদিন বৃষ্টি ভেজা সান্দ্র বাতাসের গন্ধ নাকে এল। কৈশোরের না হওয়া প্রেমের ক্ষত বুকে নিয়ে সাইকেলে আমি মনমরা বিকেলের নিভু নিভু আলোর মত পথে নেমেছি। এক বর্ণও অতিরঞ্জিত নয়। ছেঁড়া ঘুড়ি’র ছ্যাদরানো অবশেষ ঝরে পড়ল আকাশ থেকে। পাশের বাড়ি থেকে নেমে এলেন গুলজার-
‘बीती
ना बिताई
रैना, बिरहा
की जाई
रैना/भीगी
हुयी अखियों
ने लाख
बुझाई रैना’।
সিনেমার নাম ‘পরিচয়’।
এভাবেই আমাদের সমস্ত মন কেমন করা
অনুভূতিদের বর্ণমালা লিখেছিলেন তিনি। অথচ বাঙালী না হয়েও কী দুরন্ত বাঙালী। তিনি
শক্তি-সুনীলের ভক্ত। বাংলায় পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘টেগোর’ কবিতায় লিখলেন-
‘एक देहाती सर पे गुड की भेली बांधे,लम्बे- चौडे एक मैदा से गुज़र रहा था
गुड की खुशबु सुनके भिन-भिन करती
एक छतरी सर पे मंडलाती थी
धूप चढ़ती
और सूरज की गर्मी पहुची तो
गुड की भेली बहने लगी
मासूम देहाती हैरा था
माथे से मीठे-मीठे
कतरे गिरते थे
और वो जीभ से चाट रहा था’!
গত সপ্তাহে আনন্দবাজারে ঋত্বিক ঘটককে
নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বললেন, ‘আমি কনভারটেড বেঙ্গলি ম্যান’। হিন্দি বলয়ে
সচরাচর এ ধরণের কথা কেউ বলেন না। আর এটা পাবলিসিটি স্টান্ট নয়। কেননা, একটা জাতীয়
খবরের চ্যানেলেও তিনি একথা বলেছিলেন।
তাঁর পরিচালনায় দূরদর্শনে ‘কিরদার’
নামে একটা সাহিত্য নির্ভর টেলিসিরিজ হত। সেখানে তিনি প্রেমচন্দের পাশাপাশি বেছে
নিয়েছিলেন সমরেশ বসু’র ‘আদাব’। এছাড়াও প্রফুল্ল রায় সহ অনেকের লেখাই তিনি
সেলুলয়েডে নিয়ে এসেছিলেন।
তাঁকে বাঙালি প্রতিপন্ন করতে চাই না।
তবে তিনি আমাদের সংস্কৃতিরও খুব কাছের মানুষ।
এতগুলো বছর অতিক্রম করে তিনি এখনও লিখে
চলেছেন। শুধু আমাদের হলদেটে হয়ে যাওয়া স্মৃতি নয়, বর্তমানের অবিশ্বাস আর তার থেকে
ডানা মেলা অজস্র বেদনার স্তবগান ছুঁয়েছেন তিনি নিদারুন আকুতিতে-
सूरज से गिरती गर्द को छान के धूप चुनी हैसाठ साल आजादी के…हिंदुस्तान अपने इतिहास के मोड़ पर है’।
‘গুলজার’ মানে ‘গোলাপ’ অথবা ‘বাগান’।
আমাদের কবিতার বাগান। ছেলেবেলায় নিজের অজান্তেই ঠিক বলেছিলাম, গুলজার আসলে একটি
কবিতার নাম।
