Content

Tuesday, May 26, 2015

বিক্রমশীলাঃ ২১শে ডিসেম্বর, ২০১৪


এইসব এলোমেলো জীবনযাপনঃ ৩


এই উড়নচণ্ডীপনা আমি কাছ ছাড়া করতে চাইনা। ভাগলপুর গিয়েছিলাম দিন পাঁচেক আগে, একটা সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে। সময় বুঝে কেটে পড়লাম বিক্রমশিলা উদ্দেশ্যে। সাবোর স্টেশন থেকে একটা ট্রেন ধরে রওনা দিলাম।
বিক্রমশিলা স্টেশন থেকে এগারো কিলোমিটার দূরে আন্তিচৌক গ্রাম। ওখানেই মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। টকটক শব্দ করে লড়খড়ে ঘোড়ার গাড়ি ছুটে চলেছে। আমরা আবিশ্যি একটা অটো ভাড়া করে নিলাম। হাতে সময় খুব কম।
শীতের মরে আসা রোদ আমাদের শরীরে লেগেছিল। মেঘের ফাটল চুইয়ে পড়া রোদে ভিজে ভিজে যাচ্ছিল আমাদের রাতজাগার ক্লান্তি অথবা ওই ধরনের সমস্ত অবসন্নতা। ঘটঘট শব্দে ঘোর কেটে যাচ্ছে। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দারিদ্র্যের ছাপ।
আরকিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ব্যানার লাগানো গেট পেরিয়ে কিছুদূর হেঁটে যেতেই দৃশ্যমান

ল পালযুগের গর্ব, নালন্দার দোসরবিক্রমশিলা
সেই কবেই তো ধর্মপালের নাম জেনেছিলাম। অতীশ দীপঙ্করের কথাও পড়েছিলাম ইতিহাস বইয়ে। এভাবে বইয়ের পাতা পেরিয়ে আমাদের স্মৃতি, সত্তা আর ইতিহাসকে স্পর্শ করার লোভ কোনকালেই সমলাতে পারিনি। তাই কখনও ছুটে গিয়েছি অজন্তা-ইলোরায়, কখনও গোসানিমারি, বিষ্ণুপুর, উদয়গিরি আবার কখনও খাজুরাহো।
হাতে সময় খুব কম। এভাবে এত কম সময়ে ঘুরতে ভালো লাগেনা। তবুও ছুঁয়ে গেলাম স্তুপ, টেরাকোটা আর তাদের গায়ে শ্যাওলার মতো জমে থাকা ইতিহাসকে...।
বিক্রমশিলা মাহাবিহারে প্রবেশের মুখে একটা ঢিবি আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে শেষ বারের মতো দেখে নিলাম আলাউদ্দিন খিলজির কীর্তি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া আমাদের ইতিহাস। একে ধ্বংস না বলে, সূচনাও বলা যেতে পারে। একটা ঐতিহ্য ধ্বংস হয় বলেই আরেকটা ঐতিহ্যের জন্ম হয়। যেভাবে সনাতনী আদিম জনজাতির ইতিহাস মুছে দিয়ে নতুন করে ইতিহাস লিখেছিল আর্যরা...

বক্ররেখা- ফেব্রুয়ারি, ২০১৫



মুখবন্ধ, প্রস্তাবনা, নান্দীমুখ, গৌরচন্দ্রিকা... কায়দা ছাড়া কিছু নয়। আসলে সব ব্যাটাই এক। তাই বলছি, হাত থাকতে মুখে কেন?
হাত থাকতে মুখে কেন? 

ছেলেবেলায় কোন বইয়ের সূচনায় একটা শব্দবন্ধ আমার চোখে পড়েছিল- মুখবন্ধ। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শব্দবন্ধ চোখে পড়ে। পরে বুঝেছিলাম, মুখবন্ধ, প্রস্তাবনা, নান্দীমুখ, গৌরচন্দ্রিকা... কায়দা ছাড়া কিছু নয়। আসলে সব ব্যাটাই এক । সে সময় থেকেই মাথায় আসে , মন খুলে কিছু বলার আগে মুখবন্ধলিখব কেন? এটা হয়তো একটা প্রতীক। আসলে মুখ বন্ধ করে চলাফেরা করাই শ্রেয়। মুখ খুললেই সাড়ে সর্বনাশ। এর সাথে দেওয়া-নেওয়ারও একটা সম্পর্ক আছে। বোবার কোন শত্রু নেই। কথাটা ঠিক। আবার কখনো কখনো বেঠিকও বটে। যে ব্যাটারা ভেবেছিলেন, হাত থাকতে মুখে কেন- তাদেরও নিস্তার নেই।  অম্বিকেশ মহাপাত্র থেকে সতীশ আচার্য- রেহাই পান নি কেউ। তবুও হাত আটকায় এমন সাধ্য কার!

মানুষের পড়াশুনোর অভ্যাস কমতে কমতে এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে যে ফেসবুকে যেসব স্ট্যাটাস পড়ে শেষ করতে ছয় মিনিট টাইম লাগে, তাতেও লাইকানো শুরু হয় স্ট্যাটাস আপডেটের এক মিনিটের মাথায়। এদিক দিয়ে কার্টুনিস্টরা (না খেয়ে মরলেও) লাকি। তাদের কাজ যদি ফ্রী তে বিলিয়ে দেওয়া যায়, তবে লোকজন একবার অন্তত চেয়ে দ্যাখে। তাই ঠিক করলাম হাত থাকতে মুখে কেন। তবে মুখের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। তাই একেবারে বাদ দিতে পারলাম না।