এইসব এলোমেলো জীবনযাপনঃ ৩
এই উড়নচণ্ডীপনা আমি কাছ ছাড়া
করতে চাইনা। ভাগলপুর গিয়েছিলাম দিন পাঁচেক আগে, একটা সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে। সময় বুঝে কেটে পড়লাম
বিক্রমশিলা’র উদ্দেশ্যে। সাবোর স্টেশন থেকে
একটা ট্রেন ধরে রওনা দিলাম।বিক্রমশিলা স্টেশন থেকে এগারো কিলোমিটার দূরে আন্তিচৌক গ্রাম। ওখানেই মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। টকটক শব্দ করে লড়খড়ে ঘোড়ার গাড়ি ছুটে চলেছে। আমরা আবিশ্যি একটা অটো ভাড়া করে নিলাম। হাতে সময় খুব কম।
শীতের মরে আসা রোদ আমাদের শরীরে লেগেছিল। মেঘের ফাটল চুইয়ে পড়া রোদে ভিজে ভিজে যাচ্ছিল আমাদের রাতজাগার ক্লান্তি অথবা ওই ধরনের সমস্ত অবসন্নতা। ঘটঘট শব্দে ঘোর কেটে যাচ্ছে। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দারিদ্র্যের ছাপ।
‘আরকিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’র ব্যানার লাগানো গেট পেরিয়ে কিছুদূর হেঁটে যেতেই দৃশ্যমান
হ’ল পালযুগের গর্ব, নালন্দার দোসর ‘বিক্রমশিলা’।
সেই কবেই তো ধর্মপালের নাম জেনেছিলাম। অতীশ দীপঙ্করের কথাও পড়েছিলাম ইতিহাস বইয়ে। এভাবে বইয়ের পাতা পেরিয়ে আমাদের স্মৃতি, সত্তা আর ইতিহাসকে স্পর্শ করার লোভ কোনকালেই সমলাতে পারিনি। তাই কখনও ছুটে গিয়েছি অজন্তা-ইলোরায়, কখনও গোসানিমারি, বিষ্ণুপুর, উদয়গিরি আবার কখনও খাজুরাহো।
হাতে সময় খুব কম। এভাবে এত কম সময়ে ঘুরতে ভালো লাগেনা। তবুও ছুঁয়ে গেলাম স্তুপ, টেরাকোটা আর তাদের গায়ে শ্যাওলার মতো জমে থাকা ইতিহাসকে...।
বিক্রমশিলা মাহাবিহারে প্রবেশের মুখে একটা ঢিবি আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে শেষ বারের মতো দেখে নিলাম আলাউদ্দিন খিলজি’র কীর্তি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া আমাদের ইতিহাস। একে ধ্বংস না বলে, সূচনাও বলা যেতে পারে। একটা ঐতিহ্য ধ্বংস হয় বলেই আরেকটা ঐতিহ্যের জন্ম হয়। যেভাবে সনাতনী আদিম জনজাতির ইতিহাস মুছে দিয়ে নতুন করে ইতিহাস লিখেছিল আর্যরা...




