Content

Thursday, October 16, 2014

এই এলোমেলো জীবন ২




...মাঠা ফরেস্ট রেঞ্জ।বেশ গাঢ় জঙ্গল এখানে। অনেকদিন আগে শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘এই ঐশ্বরিক জঙ্গলের মাটি ও পাতার যৌথ রূপ উপভোগ করতে করতে মানুষ বড় একলা হয়ে যায়।জঙ্গলের মাথায় চাঁদ ভাসা জোছনার আলো। জানিনা আজকের রাতটাই কেন পূর্ণিমা। সরু সরু বাতাসের রেখা পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে পাতায় পাতায় কাঁপন ধরায়। সেই কাঁপন শরীরে প্রবেশ করে। শরীরের ভেতরটা কেঁপে কেঁপে ওঠে। জ্বরের মত ঘোর লাগে।জোছনা ভাঙা রাতের চুম্বনে জ্বর কমে আসে।পাশেই সরু ফিতের মত একটা নদী। নাম জানি না। এক ফোঁটা জল নেই। শুধু রূপোলী বালু।সমস্ত দিন লাল মাটির বুকে অজস্র পাথর ভেঙে, শুষ্ক স্তনের থেকে রুক্ষ কাসাইয়ের বালিতে জল খুঁজে ঘরে ফেরে কৃষ্ণ, রাসু, শান্তি, সহদেব।পাহাড়ের ছায়া পড়ে তখন গ্রামের উঠোনে। তারপর ভাঙা ঘরের ফুটিফাটা চাল চুইয়ে চাঁদের আলোর ধারা নেমে আসে সারা গ্রামে।
পুরুলিয়ার গ্রামে গঞ্জে এ সময় মোরগ লড়াইয়ের আসর বসে। আরেকটা খেলা এখানে খুব জনপ্রিয়, ‘কাড়া লড়াই। সিগারেটের মোথায় শেষ টান দিয়ে সৌরভ দা জানতে চাইল, ‘এটা আবার ক?’
কাড়াকথার অর্থ হল ষাঁড়। অর্থাৎ ব্যপারটাকে গোদা বাংলায় বলা হয়বুল ফাইটিং শুদ্ধ ভাষায় ষণ্ড যুদ্ধকাড়াতৈরি করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অন্যদের থেকে এদের আলাদা রাখা হয়। রাতের বেলা মাঠে চড়ানো হয়। সরা দিন থাকে গৃহবন্দী। ফলত এরা বেজায় হিংস্র হয়ে ওঠে। বাইরের জগতের সাথে সংযোগহীনতা এবং একাকীত্ব এদের হিংস্র করে তোলার পক্ষে যথেষ্ট।কাড়া লড়াইএক সনাতনী ঐতিহ্য। একে ঘিরে জমে যায় জুয়ার আসর। একবার বাঘমুন্ডিতে কাড়া লড়াইদেখেছিলাম।
কথা বলতে বলতে কখন রাত আটটা বেজে গেছে, খেয়ালই করিনি। এবার গ্রামে ফেরা দরকার। তখন ঝিঁঝিঁ পোকার নিরবচ্ছিন্ন কলরোল আর পাহাড়ের কোলে আছড়ে পড়া অপার্থিব জোছনা আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। এ ডাক অগ্রাহ্য করে এমন সাধ্য কার! ঝিনঝিন করে বেজে চলেছেন বব ডিলান- ‘... I heard ten thousand whispering and nobody listening’

*
রং তুলিতে স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে এভাবেই একদিন এঁকে ফেললাম কাড়া লড়াইসিরিজের ছবিগুলো-



3 comments: