Content

Saturday, October 18, 2014

টেস্ট দ্য থান্ডার

সুমনের দোকানে আজ হেব্বি জলসা!
দোকানে আজ নতুন আইটেম এসেছে। ঠাণ্ডা পানীয়। সুমন ব্যস্ত। টেনিদা এক সাইডে মুখ কালো করে বসে আছে। টেনিদা’র আসল নাম বলা যাবে না। অর্গানিক ফার্মিং আর দেশজ বীজ নিয়ে তাঁর বিস্তর নলেজ। চান্স পেলেই নলেজ বিতরণ করে। এ হেন টেনিদা যে ঠাণ্ডা পানীয় বিরোধী আন্দোলনে নাম লেখাবেন তাতে অবাক হবার অবকাশ নেই।
চা শেষ করে একটা সিগারেট ধরিয়ে চোখ বুজল টেনিদা। খুব মৃদুস্বরে গান ধরল- ‘আমি জেনেশুনে বিষ করেছি পান…’
প্যাকাই ফুট কাটল, ‘এইরে! এবার বোধহয় Ill effects of Cold drinks নিয়ে নাতিদীর্ঘ ভাষণ শুরু হবে’।
- যা বলার স্পষ্ট করে বলবি।
- না, বলছিলাম… কোল্ডড্রিঙ্কসের অপকারিতা বিষয়ে অনেকবার বলেছ, কি আর করবে… সুমনেরও তো কিছু করে খেতে হবে।
- শচিন তেন্দুলকর মদের অ্যাড বাদ দিয়েছিলেন… প্রশ্নটা এথিকসের
- তোমার চাপ নেই। শীত এলেই কোল্ডড্রিঙ্কস বন্ধ। শীত এল বলে…আর মাত্র দু-তিন মাস।
- এটা অ্যাডের জামানা। শীত কালেও লোকে কোল্ডড্রিঙ্কস খায়। অ্যাডের মহিমা কি বুঝবে প্যাকাই চন্দর! এ বিষয়ে কন্টেন্ট অ্যানালিসিস করে পেপার লিখেছিলাম ২০০৪-এ। জে এন ইউ তে একটা সেমিনারে পাঠও করেছিলাম।
নতুন গপ্পের আশায় আমরা আরও একসেট চায়ের অর্ডার দিলাম। সাথে কুত্তা খাওয়া কটকটি বিস্কুট।
টেনিদা গল্প শুরু করল।
১৯৬৯ সাল নাগাদ জাম্বিয়াতে একটা সেমিনারে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি অবাক কাণ্ড। প্রায় সব শিশুই অপুষ্টির শিকার। একটা পেপার পাবলিশ হয়েছিল এই বিষয়ে। এক্স-পোস্ট ফ্যাক্টও রিসার্চ ডিজাইন... যাই হোক এসব তোরা বুঝবি না। একজন ভদ্রলোক দাবি করলেন, বাচ্চাদের অপুষ্টির পেছনে রয়েছে ‘কোক’ আর ‘ফান্টা’র হাত।
সকলে চমকে উঠল।
আসলে অ্যাড দেখে দেখে ওখানের মায়েদের ধারণা হয়েছিল, ‘কোক’ আর ‘ফান্টা’র মধ্যে আছে দারুণ জীবনশক্তি। এসব পানীয় অ্যাডের হিরোদের মতো শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত করে তুলবে তাদের সন্তানদের। সরকার অতিমাত্রায় ঠাণ্ডা পানীয় সেবনকারী ছেলেমেয়েদের উপর সমীক্ষা করে দেখে যে এরা সকলে অপুষ্টিতে ভুগছে। এরপর জাম্বিয়াতে ‘কোক’ আর ‘ফান্টা’র অ্যাড বন্ধ হয়।
গল্প শেষ করে টেনিদা মুচকি হাসল।
প্যাকাই আমার কানেকানে বলল, ‘ভাট মারার জায়গা পায়নি’।
টেনিদা শান্ত ভাবে জবাব দেয়, ‘গুগুলে সার্চ মার একবার। নেট ভরা আছে তো…’
পুনশ্চ --- ১৯৬৯ সালে টেনিদার বয়স কত ছিল ?

No comments:

Post a Comment