Content

Friday, December 25, 2015

বড়দিন নিয়ে ১০টি বড় অদ্ভুত খবর


বড়দিন নিয়ে ১০টি অদ্ভুত খবর
২৫শে ডিসেম্বর মানেই বিশ্ব জুড়ে আনন্দের ঢেউ । পরমপিতার নিজের ছেলের জন্মদিন। অথচ গবেষকরা জানিয়েছেন, ২৫শে ডিসেম্বর যে প্রভু যিশুর জন্মদিন, এবিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্যপ্রমাণ নেই। অনেকেই মনে করেন যীশুর জন্ম হয়েছিল বসন্ত কালে। তবুও সারা বিশ্বই এই দিনটিকে তাঁর জন্মদিন হিসেবে পালন করে।  এখন বড়দিন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, আনন্দের উৎসব। বড়দিনে মাতোয়ারা হওয়ার আগে জেনে নিন অদ্ভুত কয়েকটা তথ্য ।
১০) সান্টাক্লজের নাকি স্ত্রী আছে
 বড়দিন বলতেই পেটমোটা, লাল জামা আর দুধ সাদা দাড়ির সান্টাক্লজের কথা মনে আসে। তাঁর সাথে থাকে হরেক উপহারের ঝোলা। উত্তর আমেরিকার লোকগল্প অনুসারে সান্তা বুড়োর আসল নাম, ক্রিস ক্রিংল। তিনি ছোটদের খেলনা তৈরি করতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম জেসিকা। অনেকে মিসেস ক্লজও বলে থাকেন। তবে তাঁর আরও নাম আছে।
তাঁর কথা প্রথম ১৮৪৯ সালে জেমস রিস তাঁর ছোটগল্প "A Christmas Legend"- এ বলেন। এরপর ১৮৫১ সালে ‘A B’ ছদ্মনামে এক তরুণ গবেষক, তাঁর লেখায় মিসেস ক্লজের কথা বলেন।
৯) সব থেকে বড় ক্রিসমাস ট্রি
বাজারে আমরা নকল ক্রিসমাস ট্রি দেখে থাকি। আসল ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে সবুজ পাইন, ফারের মত কনিফার জাতীয় গাছ ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে সারা বিশ্বেই আদিখ্যেতা দেখা যায়। তবে ১৫-১৬ শতকে জার্মানিতেই প্রথম ক্রিসমাস ট্রি’র ব্যবহার শুরু হয়।
তবে সবাইকে চমকে দিয়ে ওয়াশিংটনের নর্থগেট শপিং সেন্টার ১৯৫০ সালে একটি ২২১ ফুট লম্বা ফার গাছ থেকে ক্রিসমাস ট্রি বানিয়েছিল। এটা গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও স্থান পায়। ১০-১২টা জিরাফ পরপর একে অপরের উপরে দাঁড়িয়ে গেলে এই ক্রিসমাস ট্রি’র সমান লম্বা হতে পারবে!
৮) ইংল্যান্ডে অদ্ভুত ডিনার
ইংল্যান্ডে বড়দিন উপলক্ষে অনেকেই কাসুন্দি দিয়ে শুয়োরের মাথা মাখিয়ে খায়। তবে এই পরম্পরা এখন বিলুপ্তপ্রায়। ও হ্যাঁ, ইংরেজরা এই ডিনার সারতেন শেষ বিকেলে।
৭) সান্টাক্লজের আসল নাম সেন্ট নিকোলাস
একটু আগেই বলেছিলাম, সান্তা বুড়োর আসল নাম, ক্রিস ক্রিংল। এই নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন সান্টাক্লজ নামটি এসেছে এক সেন্ট নিচোলাস নামক এক তুর্কি পাদ্রীর নাম থেকে। চতুর্থ শতকে সেন্ট নিকোলাস তাঁর দানধ্যানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি শিশু মহলে খুব জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে অজস্র গল্প তৈরি হয়। তাঁর নাম ডাচ লোকেরা ভুল উচ্চারণ করত।  সেন্ট নিচোলাস হয়ে গেলেন সেন্ট নিকোলাস। আরও সুবিধের জন্য তাঁর নাম অনেকেই রাখলেন সিন্টার ক্লাস।  এই নাম আরও ছোট হতে হতে সান্টাক্লজ হয়ে যায় একসময়।
৬) কলম্বিয়ার জঙ্গলে বড়দিনের আলো
২০১০ সালে কলম্বিয়া সরকার বড়দিন উপলক্ষে তাঁদের সমস্ত বনভূমি আলোয় ঢেকে দিয়েছিলেন। এটা আসলে একটা বিশেষ ক্যাম্পেন ছিল। যখন ফারক গেরিলা সন্ত্রাসীরা এই বনভূমি দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বনের বিভিন্ন গাছে লাগিয়ে রাখা পোস্টার তাঁদের চোখে পড়ে। এরপর ৩৩১ জন সন্ত্রাসবাদী সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসে।

৫) বড়দিন উপলক্ষে ভূতের গল্প
বড়দিন উপলক্ষে ভূতের গল্প বলার নিয়ম আগের শতাব্দীতেও ছিল। ২০০১ সালে সেন্ট মারটিন প্রেস থেকে প্রকাশিত Inventing The Victorians’ বই থেকে জানা যায় যে বড়দিন উপলক্ষে ভূতের গল্প বলার রেওয়াজ ভিক্টোরিয়ান যুগেও ছিল। শুধু গল্প বলার এই রীতিকে ইংরেজ লেখকেরা এরপর তাঁদের সাহিত্যে নিয়ে আসেন। এরপর ‘ঘোস্ট অফ ক্রিস্টমাস’, ‘ক্রিস্টমাস স্পিরিট’-এর মত অজস্র জনপ্রিয় ভূতের গল্পের সিরিজ প্রকাশিত হতে থাকে। এমনকি চার্লস ডিকেন্সের লেখাতেও বড়দিনের ভূতের গল্পের উল্লেখ আছে।
৪) বিশ্বযুদ্ধের ময়দানেও বড়দিন উদযাপিত হয়েছিল
১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি আর ব্রিটেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। ২৫শে ডিসেম্বর দু’পক্ষই নিজেদের ক্যাম্প, যুদ্ধক্ষেত্র সাজিয়ে ছিল। এমনকি নিজেদের মধ্যে উপহারের আদানপ্রদানও হয়েছিল। এই উপলক্ষে দু’পক্ষের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজনও হয়েছিল। অজস্র রক্তপাতের মাঝেও মানুষ উৎসবে মেতেছিল, তাঁদের বাঁচার আকুতি থেকেই।

৩) বড়দিনঃ সুইডেনের লোকেদের কাছে ‘ডোনাল্ড ডাক’ দেখার দিন
ডোনাল্ড ডাকের নাম কে না শুনেছে! ছেলেবেলায় আমাদের প্রিয়তম কার্টুন চরিত্রগুলোর একটা। সুইডেনের লোকেরা ডোনাল্ড ডাককে বলে ‘কাল্লে আঙ্কা’। ২৫শে ডিসেম্বর সপরিবারে, একাএকা, দু’জনে মিলে ‘কাল্লে আঙ্কা’ বা ডোনাল্ড ডাকের কার্টুন শো দেখাই সুইডেনের ট্র্যাডিশন। এসময় রাতের খাবার তৈরি করা যাবে না। এমনকি কার্টুন শো চলাকালীন রাতের ডিনার সারা যাবে না। বিগত ৫০ বছর ধরে সুইডেনে এটাই রীতি। বিকেল ৩টায় শো শুরু হয়, এসময় সব দোকান-পাট বন্ধ থাকে।
২) সান্টাক্লজের জামা নাকি কোকাকলা’র দেওয়া
১৮০৪ সাল। নিউইয়র্ক হিস্টোরিকাল সোসাইটি’ র মিটিঙে জন পিন্টারড একটি কাঠের মূর্তি দেখালেন। মিস্টি হাসির বুড়োর মূর্তি। সাথে ঝোলা ভর্তি খেলনা। নাম সেন্ট নিক। ধরে নেওয়া হয় এটাই সান্টাবুড়োর প্রথম মূর্তি। সে সময় সান্টাবুড়ো নীল, সবুজ আর সাদা রঙের জামা পড়ত।
তবে আমরা সান্টাক্লজের যে রূপ দেখতে অভ্যস্ত, তা বাজারে নিয়ে আসে কোকাকোলা। ১৯২০ সালে The Saturday Evening Post পত্রিকায় প্রথম দেখা যায় আধুনিক সান্টাক্লজকে। এরপর ১৯৩০ সালে আবার বড়দিনের সময় কোকাকলা বাজারে নিয়ে আসে সান্টাবুড়োকে।  সান্টাক্লজ উপহার বিলোতে বিলোতে ক্লান্ত হয়ে কোক খাচ্ছে। ছবিটি এঁকে ছিলেন ফ্রেড মিজেন। সেই শুরু, এরপর ফি বছর ডিসেম্বর মাসে বুড়ো উপহার নিয়ে আসেন।
১) তথ্য বলছে ক্রিসমাসের দু’ সপ্তাহ আগে সব থেকে বেশি ব্রেকআপ হয়
ডেইলি মেল নামক একটি প্রখ্যাত ওয়েবসাইট জানিয়েছে যে  যে ক্রিসমাসের দু’সপ্তাহ আগে  ব্রেকাপের হার সর্বাধিক। যদিও ক্রিস্টমাসের দিন এই সংখ্যাটা নগণ্য। ম্যাক ক্যান্ডলেস ১০,০০০ ফেসবুক আপডেট স্ট্যাটাস নিরীক্ষা করে এই রিলেশন ব্রেকআপ গ্রাফ প্রকাশ করেছে এ বছর আগস্ট মাসে।



5 comments:

  1. কোনটা বেশি ভাল্লাগ্লো....তুলি না কলম... এই ধন্ধ 😦

    ReplyDelete
  2. কোনটা বেশি ভাল্লাগ্লো....তুলি না কলম... এই ধন্ধ 😦

    ReplyDelete
  3. পড়লাম। কয়েক্টা জানতাম কয়েক্টা জানলাম। ভালই

    ReplyDelete