রাতের ছায়ায় লেখা কয়েকটি গান
মফস্বলে বড় হবার কয়েকটা অসুবিধা আছে। হাতের কাছে অনেক
কিছুই পাওয়া যায়না। তাই বব ডিলানের নাম প্রথমবার শোনার তিন-চার বছরের মাথায় তাঁর
গান শুনেছিলাম। সেটা ক্যাসেটের যুগ। ইন্টারনেট ততটা সহজলভ্য ছিলনা। এরপর যখন
মাল্টিমিডিয়া সেট আর অপেরামিনি এল, তখন আমাদের সামনে খুলে গেল এক নতুন জগৎ। সে সময়
আমি গ্রাজুয়েশনের ছাত্র। বলাবাহুল্য, প্রথমবার বব ডিলানের ঝিনঝিনে গলায় গাওয়া
গানগুলো মোটেই ভাল লাগে নি।
এর বেশকিছু পরে সুমনের গলায় শুনেছিলাম, ‘কতটা পথ পেরোলে...’।
যখন জেনেছিলাম, গানটা বব ডিলানের অ্যাডাপশন, তখন মনে হয়েছিল- ‘লোকটাকে কাল্টিভেট করতে
হবে’। এই ধারা এখনও সমানে চলছে।
গ্রে স্কেলে আঁকা ছবির মত আমাদের হোস্টেলের ছাদে জমে
থাকত অন্ধকার। রাত গভীর হলে ক্রমে ছাদে ভিড় কমে আসত। ইতিউতি ছড়িয়ে থাকত ফোনে কথা
বলা প্রেমিকের দল। সমস্ত রাত ধরে জমে ওঠা কালসিটে বর্ণের ছায়ায় ধরা দিতেন ডিলান- তাঁর
‘Shadows
of Night’ নিয়ে। মাঝে মাঝে বিকেলের চুরি যাওয়া আলোয় ছাদের আলসের ধারে বসে বসে বড্ড
একাকী লাগত, ছিপছিপে দুঃখের চোরা স্রোত আনবরত ধাক্কা খেত – আসলে ‘Tight connection of My Heart’ বলে কিছু হয়না। বরং যেটা হয়,
সেটা হ’ল – ‘You can always come back, but you can’t come back all the way’.
রাত হলেই কেমন স্মৃতিচারী হয়ে
পড়ি আজকাল। এরপর অজস্র অভাব- অভিযোগ, ভাললাগা, ঘেন্না সাপের মত সুরসুর করে
চলে-ফিরে বেড়ায়। যেমন ধরাযাক, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভের কথা। ফি বছর অজস্র চাষি
আত্মহত্যা করে সেখানে। জলের অভাব আর খরা সব মিলেমিশে একাকার। অথচ এই জেলার খুব কাছেই উচ্চবিত্তদের জলক্রীড়া’র জন্য একটা বেজায় ব্যয়বহুল
‘ওয়াটার পার্ক’ আছে। এসব দেখেশুনে ক্ষেপে গিয়ে তোমার গান শুনি।নিজেকে বেশ বিপ্লবী
মনে হয়। মাঝে মাঝে ফেসবুকে স্টেটাস আপডেট দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিই। তারপর
ঘুমিয়ে পড়ি।
পরদিন সকালে আবার ‘Book My Show’তে টিকিট আছে কিনা দেখে নিই। কেননা
আমাদের মত বধিরদের কথা তোমার গানেই শুনেছি। তোমার গানকে মিথ্যে হতে দিই, এমন সাহস
বা সাধ্য কোনটাই আমার নেই!
“ Heard one person starve, I
heard many people laughing./ … Heard ten thousand whispering and nobody
listening”.
শুভ জন্মদিন বব ডিলান

No comments:
Post a Comment