![]() |
| আলোর রাত |
রাতটা বড় ছিল...
সন্ধ্যেটা কেটেছিল মিশনের
‘প্রভু যীশু’র পুজো দেখে। সেখানে অবাক কাণ্ড। গঙ্গাদা সান্তাক্লজ সেজে দিব্যি চকোলেট,
কেক বিতরণ করছে। তারপর ‘কানহা’য় খেতে গেলাম। সেখানেই ঠিক হ’ল, রাতে চার্চে যাব। অতএব;
দেড় কিস বাত কী? সাথে ক্রিসমাস কেক, কোল্ডড্রিঙ্কসের ক্যান, পুল ওভার, রুদ্র আর সৌরভ।
ঘুমকাতুরে বলে রাঁচি শহরটার বদনাম আছে।
তার উপর কনকনে শীত। রাস্তায় বেড়িয়ে অবাক হয়ে
গেলাম। রাঁচি মেতে উঠেছে উৎসবে। মোড়ে মোড়ে ঝুলনের পুতুল
সাজানোর মতো যীশুর জন্মদৃশ্যের রেপ্লিকা বসানো হয়েছে। তার সাথে চলছে ছোটনাগপুরী গান
আর উদ্দাম নাচ।
শীতের রাতে এভাবে পথ হাঁটার একটা আলাদা মজা আছে। একটা গোপন শিহরণ শরীর মন জুড়ে খেলে বেড়াচ্ছে। এভাবেই হেঁটে চলেছি। কুয়াশার গন্ধ, রঙিন আলো, ক্রিসমাস ট্রি, রঙচঙে ঝালর – এসব
ততক্ষনে চোখ সওয়া হয়ে গিয়েছে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ
পার হয়ে একটা চার্চে এসে পৌঁছুলাম। ঝলমলে আলো, লোকের ভিড় আর গির্জার ঘণ্টাধ্বনি একটা
আবেশ তৈরি করেছে। সৌরভের আবদারে মোম কেনা হ’ল।
আবার হেঁটে চলেছি। বহুবাজারের কাছে তিনশ বছর বয়স্ক একটা গির্জা আছে। সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল। সেদিকেই চলেছি।
কয়েকটা ছেলে রাস্তায় জোর করে চা আর লাছ্ছা খাইয়ে দিল। উৎসবের রাত বলে কথা!
পৌঁছে দেখি এলাহি কারবার। পৃথিবীর সব আলো, সব রঙ এসে ভিড় করেছে এখানে। সোনালি ঝালর, ফুল, রঙ, আলো সব একসাথে গুলিয়ে একটা প্যালেটে ছড়িয়ে রাখলে, যে মায়াবী কলেবর জন্ম নেবে- তা যেন স্বচক্ষে দেখলাম। এরপর আবার গির্জার ঘণ্টা শোনা যায়। পাদ্রির সাদা পোশাক, চার্চের রেওয়াজ, ক্রিসমাস ক্যারোল আর ওল্ড টেস্টামেন্ট পাঠ... দেখতে দেখতে রাত পেরোচ্ছে।
এই আলো পেরিয়ে গাঢ় অন্ধকার। চার্চের বাইরে জমে থাকা অন্ধকারে ভিড় জমিয়েছে ভিখিরির দল। ওদেরও উৎসব। এই অন্ধকারে জমে ওঠা মেঘদল আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ চারদিকে। ফোনের স্ক্রিন লক খুলতেই ফিনকি দিয়ে আলো ছড়ায় ‘নিউস হান্ট’, ‘অসমে জঙ্গি হানায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭’।
ঘুমকাতুরে বলে রাঁচি শহরটার বদনাম আছে।
![]() |
| গঙ্গাদাঃ সান্টা বুড়োর সাজে |
শীতের রাতে এভাবে পথ হাঁটার একটা আলাদা মজা আছে। একটা গোপন শিহরণ শরীর মন জুড়ে খেলে বেড়াচ্ছে। এভাবেই হেঁটে চলেছি। কুয়াশার গন্ধ, রঙিন আলো, ক্রিসমাস ট্রি, রঙচঙে ঝালর – এসব
ততক্ষনে চোখ সওয়া হয়ে গিয়েছে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ
পার হয়ে একটা চার্চে এসে পৌঁছুলাম। ঝলমলে আলো, লোকের ভিড় আর গির্জার ঘণ্টাধ্বনি একটা
আবেশ তৈরি করেছে। সৌরভের আবদারে মোম কেনা হ’ল।আবার হেঁটে চলেছি। বহুবাজারের কাছে তিনশ বছর বয়স্ক একটা গির্জা আছে। সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল। সেদিকেই চলেছি।
কয়েকটা ছেলে রাস্তায় জোর করে চা আর লাছ্ছা খাইয়ে দিল। উৎসবের রাত বলে কথা!
পৌঁছে দেখি এলাহি কারবার। পৃথিবীর সব আলো, সব রঙ এসে ভিড় করেছে এখানে। সোনালি ঝালর, ফুল, রঙ, আলো সব একসাথে গুলিয়ে একটা প্যালেটে ছড়িয়ে রাখলে, যে মায়াবী কলেবর জন্ম নেবে- তা যেন স্বচক্ষে দেখলাম। এরপর আবার গির্জার ঘণ্টা শোনা যায়। পাদ্রির সাদা পোশাক, চার্চের রেওয়াজ, ক্রিসমাস ক্যারোল আর ওল্ড টেস্টামেন্ট পাঠ... দেখতে দেখতে রাত পেরোচ্ছে।
এই আলো পেরিয়ে গাঢ় অন্ধকার। চার্চের বাইরে জমে থাকা অন্ধকারে ভিড় জমিয়েছে ভিখিরির দল। ওদেরও উৎসব। এই অন্ধকারে জমে ওঠা মেঘদল আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ চারদিকে। ফোনের স্ক্রিন লক খুলতেই ফিনকি দিয়ে আলো ছড়ায় ‘নিউস হান্ট’, ‘অসমে জঙ্গি হানায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭’।
![]() |
| সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল |
![]() |
| অন্ধকারে জমে ওঠা মেঘদল |




No comments:
Post a Comment