Content

Sunday, December 20, 2015

ভাঙা প্রবন্ধ- কামতাপুরের ধরলা নদী



কামতাপুরের ধরলা নদী আর ছেলেবেলার মেঘ
 ( ‘লেখালেখি’ পত্রিকায় প্রকাশিত  ‘কামতাপুরের রাজপাটঃ একটি বিস্মৃত রাজধানী’র প্রত্নখনন’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশবিশেষ) 

বর্ষার সময় আমাদের উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলো গাঢ় সবুজ হয়ে যায়। কালচে মেঘের ছায়া পড়ে পুকুরের জলে। মাঝে মাঝে আকাশের গোঙরানি আর চপচপে হিউমাস কাদায় চপর চপর শব্দ আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। এরপর অবিরাম ধারাপাত। মানকচুর ছাতা মাথায় আড়ষ্ট পায়ে ছুটে চলে মাঠ ফেরত কিশোরী...। ক্রমশ বৃষ্টি ধারায় ঢেকে যায় সবকিছু। খড়ের ছাউনি চুইয়ে বৃষ্টি ঝরে ঝরে পড়ে। ভেসে আসে গরুর ডাক। তোর্সা পারের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে এসময় ধানের বীজ ফুঁড়ে সবুজ প্যাস্টেল ঘষা নির্মলতা।তবুও এই রঙ আর নির্মলতায় একটা বেদনার সুর ভেসে আসে। শট ট্রানসাকশন হয়। মেঘের ফাঁকে ফাঁকে অপার্থিব আলো।তবুও মায়ের কান্নার মত অজস্র বারিপতন...। 
বন্যার আশংকা আর স্যাঁতস্যাঁতে অ্যাজোলা মাড়িয়ে ধান ক্ষেতে কাজ করে হারান মিঞা আর রুনু বর্মণ। ফোলা চোখে চেয়ে থাকে চাষির পো।তার ফোলা চোখ, চ্যাপ্টা ঠোঁটে লেগে থাকে বৃষ্টিবিন্দু।চারদিক কেমন ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে ওঠে।বৃষ্টি সিক্ত অজস্র এলোমেলো বাতাস এই দিগন্ত বিস্তৃত ক্যানভাসের হলদেটে সান্দ্র রঙ শুষে নিতে পারেনা। তার ফোলা চোখের অবাক দৃষ্টি আর মেঘ ভাঙা আলোয় ধানক্ষেতের মান্তাজে ধরা দেয় সত্যজিতের নিশ্চিন্দিপুর। কেন, কীভাবে জানিনা। রবিশঙ্করের সুরে বাজতে থাকা বাঁশীর মত বুক দোমড়ানো সুরে রিক্সাওয়ালা গেয়ে ওঠে কামতাপুরের আদি সঙ্গীত-
ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে
উড়িয়া যায়রে চকোয়ারে পংখী
বগীক বলে ঠারে
ওরে তোমার বগা বন্দী হইছে ধল্লা নদীর পারে রে

ভাওইয়া গানে এভাবেই ফিরে ফিরে আসে জল-জমি-জঙ্গলের কথা। এ গানেও একটা নদীর নাম আছে- ‘ধল্লা’। এই ‘ধল্লা’ নদী বোধহয় ‘ধরলা’ নদী।‘ধরলা’ নদীর কথা পাওয়া যায় ডাঃ বুকানন হ্যামিলটন সাহেবের কামতাপুর ভ্রমণের কাহিনীতে। সেটা ১৮০৯-১০ সাল।তথ্য বলছে, সে সময় কামতেশ্বর রাজার রাজধানীর পূর্ব দিকে ছিল ‘ধরলা’ নদী।কামতাপুরের উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিম জুড়ে বিদ্যমান ছিল বিশাল মাটির গড়। ধরলা নদী শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে এই রাজপাট রক্ষা করত। এ প্রসঙ্গেও উপযুক্ত তথ্যাদি রয়েছে। যাইহোক, সে আর এক ইতিহাস। তবে ‘ধরলা’ নদীর বর্ণনা করতে গিয়ে হ্যামিলটন সাহেব ‘বিশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন ১*। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ‘ধরলা’ নামে যে নদীটি কামতাপুরের গড়ের কাছে প্রবাহমান- তা একটি শীর্ণকায়া উপনদী।কোন পূর্ণিমার রাতে একে রূপোলী ফিতে বলে ভ্রম হয়। আগেই বলা হয়েছে হ্যামিলটন সাহেবের বর্ণনা অনুযায়ী কামতেশ্বর রাজার রাজধানীর পূর্ব দিকে ছিল ‘ধরলা’ নদী।আমরা যে ‘ধরলা’ নদীর রেফারেন্স এখানে টানছি, তা গড়ের উত্তর দিকে প্রবাহমানএক্ষেত্রে দুটো হাইপোথিসিস দাঁড় করানো যায়- ১)হ্যামিলটন সাহেবের দেওয়া তথ্য ঠিক নয় অথবা ২) আমরা যে ‘ধরলা’ নদীকে কামতেশ্বর রাজার গড়ের রক্ষী বলে ধরে নিচ্ছি, তা আসলে ইতিহাসে বর্ণিত ‘ধরলা’ নদী নয়। এক্ষেত্রে আরও একটা প্রশ্নের উদ্রেক হয়ঃ তাহলে গোঁসানিমারির গড় কি কামতেশ্বর রাজার রাজধানী নয়? বলাবাহুল্য, উত্তরবঙ্গে ‘ধরলা’ নামে একাধিক নদী আছে।জলপাইগুড়ি জেলার উপকণ্ঠে অবস্থিত শহর ময়নাগুড়ি ১**। এই শহর গড়ে উঠেছে ‘জড়দা’ নদীর তীরে। এই নদীর গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর একটি উপনদী রয়েছে যার নাম ‘ধরলা’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ময়নাগুড়ির খুব কাছেই জল্পেশ্বরের মন্দির। এই মন্দিরের নাম অনুসারে এই জায়গাটির নাম হয়েছে ‘জল্পেশ’ ১***।‘জড়দা’ নদী এই জনপদের পাশ দিয়ে বয়ে কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধার কাছে এসে ‘ধরলা’ নামে প্রবাহিত হয়েছে। এরপর এই নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মানসাইয়ের সাথে মিশেছে। এই মানসাই আসলে জলঢাকা। এই নদীর সাথে ব্রহ্মপুত্র নদের একটা যোগ পাওয়া যায়। শোভেন সান্যাল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কোচবিহার কিছু কথা কিছু ইতিহাস’-এ এই ধাঁধার সমাধান করেছেন-
‘বর্তমানের ধরলা এবং সিঙ্গিমারি নদীর সঙ্গে ডাঃহ্যামিলটনের বিবরণের যথেষ্ট তফাত থেকে যাচ্ছে। এই তফাতের একটাই কারণ উত্তরবঙ্গের নদীগুলির ঘনঘন দিক পরিবর্তন।এখন নানারকম সংরক্ষণমূলক বাঁধ প্রভৃতি দেওয়ার ফলে নদীগুলির মোটামুটি একটা স্থায়ী গতিপথ আছে। কিন্তু কয়েকশো বছর আগে এসব কিছুই ছিল না।ফলে প্রতিটি বন্যাতেই নদীর গতিপথের পরিবর্তন ঘটত। ধরলা নদীর গতিপথ নিয়ে আলোচনা করতে গেলেও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে’।        
বৃষ্টি থেমে গেলে একটা মনমরা রোদ চোখ ভিজিয়ে দেয়।ধরলা নদীর তীরে ভেজাভেজা বালির ওপর জমা হয় শেষ বিকেলের আলো। শতশত বছর ধরে বর্ষাকালেই বদলেছে ধরলার গতিপথ। হয়তো কাকতালীয় হবে, কিন্তু ধরলা আবিষ্কারের দু’শ বছর পর আমিও এখানে এসেছি এই বর্ষাকালেই। হু হু করে বয়ে আসা বর্ষার বাতাসে দুলে দুলে ওঠে সুপুরি বনের সারি। তখনও দিনহাটা মফস্বলে ঘিঞ্জি শহুরে আবাস তৈরি হয়নি। সমস্ত দিন মেঘ কালো ছায়া ঢেকে দিত গোঁসানিমারি গড়ের বাঘ দুয়ার। মেঘের ফাটল চুইয়ে ঝরে পড়ত অপার্থিব আলোর রেণু। কোন মানুষের হেলদল নেই। পুরনো বটের মত নির্লিপ্ত ভঙ্গীতে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত মাটির গড়ের শেষ চিহ্ন। চোখ ফোলা বুড়োরা তৈরি করত অজস্র কিংবদন্তী
তথ্যসূত্র নির্দেশঃ
১) কোচবিহার কিছু কথা কিছু ইতিহাস- শোভেন সান্যাল। (১*, ১**, ১***)
২) বিষয়ঃ কোচবিহার- কোচবিহারের ইতিহাস – ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল।    


Saturday, December 19, 2015

Book Review: Kiriti Sengpta's "A Freshman’s Welcome"



Dictum and Dialectics of "A Freshman’s Welcome"

Closing your eyes, just think about a fresher’s poetry. It is confusing as well as agonizing to write a review on it. We become confused, as because we are not honest. Can you imagine publishing a preview-book on/of a newcomer poet? It seems really tough in Bengali culture.

The book "A Freshman’s Welcome" intends to exploit ‘backstage stories' of poets. Nowadays ‘Poetry’ has become a residual job for economically empowered people. It provides a glamorous effect. Hence, it is quite impossible to believe in the existence of a poet who chooses poetry as a career option. On the other hand, "poetry has limited readership." This is the background where 'A Freshman’s Welcome" starts its journey.
Author Kiriti Sengupta has an instinctive ability to hold readers’ hands with lucid sentences. He has a great sense of 2Ps- 1) Poetry and 2) Promotion. A proper amalgamation of these 2Ps could provide stimulation among the limited readers of poetry. A new trend of modern publication in recent years has been the large-scale promotion of books through the preview and review, which often sensitizes the readers about an author and his/ her creation. The book "A Freshman’s Welcome" has enough potential to mobilize masses for Tanmoy Bhattacharjee’s "Heights of Life."
Historically speaking, Bengali poets have an ancient tradition to split up into parties. Here is an exception. You may miss that blind support. Kiriti remained honest to introduce Tanmoy.
In "Tanmoy & I," Kiriti siphoned an outline of the entire journey by explaining "What goes on behind the scenes between writers," as editor Don Martin advised.
In "Tanmoy and Poetry," and "Tanmoy’s Heights of Life," the author intends to highlight Tanmoy’s poetry with analytical dimensions.
Narrative approach with a recapitulation of memories has been adopted for the purpose of "Fresher’s Introduction." Personal experience exploration and proper citation are the integral part of this sixteen-page book. The book also thoroughly analyses the constraints faced by the newcomers. Finally, the back cover of the book promotes Tanmoy Bhattacharjee’s ‘Heights of Life’ in a pictorial form.
Book: A Freshman’s Welcome
Author: Kiriti Sengupta
Publisher- Hawakaal Publisher
ISBN: 978-83-85783-62-3
Price- Rs. 60/-


Wednesday, November 25, 2015

প্রকাশিতঃ ট্রাভেলগ স্কেচ বুক- বুন্দী ভ্রমণ




বুন্দী বলিরেখা আর স্মৃতির রেখাচিত্র  
প্রকাশ কাল- ২৫শে নভেম্বর, ২০১৫
পত্রিকা- শব্দের মিছিল
সম্পূর্ণ লেখার লিংক- http://www.sobdermichil.com/2015/11/shambo.html
 
এরপর এখানে রাত আরও গভীর হয়ে আসবে। পাথর- ছবি জড়ো করে উদ্বাস্তু হৃদয় যত হেঁটে বেড়াবে অলিগলি। যৌবন যৌতুক রাখা কয়েকজন নিজের জঠরে জমাবে শহরের বলিরেখা। অখন্ড নীরবতার পেলব গন্ধ মাখা অজস্র তুলি আঁকতে থাকবে জীর্ণ মানুষের ইতিহাস। আরবল্লীর বুকে ইতিহাসের দোহাই দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে মৌচাক সদৃশ বুন্দীর রাজপাট।আর চম্বল নদী বিভাজিকা টেনেই যাবে।  
    
ধূসর প্লীহা- ধমনী- অঙ্গুলি সন্নিবেশে
অলৌকিক গল্পমালার ক্ষান্তিহীন হরফ কিছু
জমা থাকুক এভাবে অথবা যেভাবে 
অঙ্গচ্ছেদের শল্যাঘাতে তৃপ্তিহীন মাথা উঁচু।

রাভেলগ স্কেচবুক। গোটা ভ্রমণ বৃত্তান্ত স্কেচ করে খাতায় তুলে রাখেন অনেকেই। অনেকে শুধু ছবি আঁকেন, অনেকে আবার এলোমেলো ভাবে লেখা-রেখা সবটাই খাতায় তুলে রাখেন। বাংলা পত্রপত্রিকায় সচরাচর ট্রাভেলগ স্কেচবুক প্রকাশিত হয়না। বাংলা বই হিসেবে ট্রাভেলগ স্কেচবুক প্রকাশের ঘটনা বিরল। দেবাশীষ দেব ছাড়া আর কারও ট্রাভেলগ স্কেচবুক বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আসল গল্পটা হ'ল আমার 'বুন্দী' ভ্রমণের ট্রাভেলগ স্কেচবুক প্রকাশিত হয়েছে 'শব্দের মিছিল' পত্রিকায়। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা দরকার, আমি ট্রাভেলগ স্কেচবুকের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে পারিনি। খানিকটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই। কম্পিউটারের ছোঁয়া লেগেছে।
নীচে লিংক দিয়ে দিলাম। দেখে/পড়ে নিতে পারেন

www.sobdermichil.com/2015/11/shambo.html