টেগোর
হিলঃ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরদোর
(আগেকার পোস্টের অংশবিশেষ)
পালিয়ে প্রেম করতে আসা শালিক পাখিদের কাছে অনবদ্য জায়গা এই ‘টেগোর হিল’। ঐতিহাসিক মোরাবাদি ময়দান পেছনে ফেলে যে রাস্তাটা সোজা সায়েন্সসিটি’র দিকে বেরিয়ে যাচ্ছে, সে রাস্তায় মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৩০০ মিটার উঁচু পাহাড়- ‘টেগোর হিল’।
স্থানীয় রিকশা চালকের দল ‘টেগোর হিল’কে ‘টাইগার হিল’ বলে চালিয়ে দেয়। তথাকথিত শিক্ষিত নাগরিক সমাজ অবিশ্যি ‘টেগোর হিল’ কে ‘গুরুদেও আর এন টেগোর’-এর বাড়ি বলে থাকেন। প্রথমদিকে আমায় এও শুনতে হয়েছে যে এখানে বসে টেগোর লিখেছিলেন ‘গীতাঞ্জলী’। তবে এসব ঢপের কেত্তন! পাহাড়ের বুকে যে সাদা বাড়িটা উঁকি দিচ্ছে, তার আসল মালিক হলেন কবিগুরুর বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্র নাথ ঠাকুর।এর উল্লেখ পাহাড়ের গায়েই আছে।
(আগেকার পোস্টের অংশবিশেষ)
পালিয়ে প্রেম করতে আসা শালিক পাখিদের কাছে অনবদ্য জায়গা এই ‘টেগোর হিল’। ঐতিহাসিক মোরাবাদি ময়দান পেছনে ফেলে যে রাস্তাটা সোজা সায়েন্সসিটি’র দিকে বেরিয়ে যাচ্ছে, সে রাস্তায় মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৩০০ মিটার উঁচু পাহাড়- ‘টেগোর হিল’।
স্থানীয় রিকশা চালকের দল ‘টেগোর হিল’কে ‘টাইগার হিল’ বলে চালিয়ে দেয়। তথাকথিত শিক্ষিত নাগরিক সমাজ অবিশ্যি ‘টেগোর হিল’ কে ‘গুরুদেও আর এন টেগোর’-এর বাড়ি বলে থাকেন। প্রথমদিকে আমায় এও শুনতে হয়েছে যে এখানে বসে টেগোর লিখেছিলেন ‘গীতাঞ্জলী’। তবে এসব ঢপের কেত্তন! পাহাড়ের বুকে যে সাদা বাড়িটা উঁকি দিচ্ছে, তার আসল মালিক হলেন কবিগুরুর বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্র নাথ ঠাকুর।এর উল্লেখ পাহাড়ের গায়েই আছে।
১৯০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে রাঁচিতে এসেছিলেন। তারপর দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এখানে। সেসময় স্থানীয় জমিদার হরিহর সিংহের থেকে কিনে নিয়েছিলেন এই বাড়ি।এ বাড়ির নাম ছিল ‘শান্তি ধাম’।
গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে যখন বাঙালি বাবুরা রাঁচির লালপুরে তাদের কলোনি বানাতে শুরু করলেন, সে সময় মোরাবাদি ছিল তাদের বৈকালিক ভ্রমণের স্থান। পুরোন বইপত্তর ঘাঁটলে দেখা যায়, সে সময় বাঙালী বাবু’র দল গরুর গাড়ি চেপে এ অঞ্চলে ঘুরতে আসতেন। কুস্তী দেখতেন মরাবাদি ময়দানের কাছে। সে সময় সবুজ প্যাস্টেল ঘঁষা পাথুরে এই পাহাড়ের নাম ছিল, ‘মোরাবাদি হিল’। এসময় রাঁচিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী স্বামী বিশুদ্ধানন্দ এ অঞ্চলে ত্রাণের কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে এখানেই রামকৃষ্ণমিশনের শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। রামকৃষ্ণমিশনের সাথে সাধারণ বাঙালির যোগাযোগ অনেকদিনের। ফলত লালপুর অঞ্চল থেকে মোরাবাদি পর্যন্ত একটা গভীর যোগসূত্র স্থাপিত হয়। যা কালক্রমে ‘টেগোর হিল’কে স্থানীয় মানুষের কাছে এক অমোঘ টানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
১৯২৫সালে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ‘টেগোর হিল’ স্থানীয় মানুষের কাছে ব্ল্যাকলিস্টেড জায়গায় পরিণত হয়। কেননা, রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ‘টেগোর হিল’ স্থানীয় অপরাধীদের কাছে মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। এরপর ১৯৬৩ সালে ঠাকুর বংশের বংশজ পূর্ণিমা ঠাকুর মাত্র ২০,০০০ টাকার বিনিময়ে ‘টেগোর হিল’ বেঁচে দেন।
বিপুল বাঙালি ভোটের অংককে মাথায় রেখে ঝাড়খণ্ড সরকার এই বাড়ির সংস্কার করেন। কিন্তু চূড়ান্ত উদাসীনতার মলিন ছাপ এখনও বিদ্যমান।
তবুও ‘টেগোর হিল’ আছে ‘টেগোর হিলেই’।
মন খারাপ করা যে কোন বিকেলে টেগোর হিলের টঙ্গে বসে অথবা জ্যোতি ঠাকুরের ছাদ থেকে দিগন্ত বিস্তৃত শহরের বাড়িঘর, গাছপালা, টিলা, পুকুরের দিকে চেয়ে থাকলে কেমন ঘোর লাগে। একটা অদ্ভুত সুর খুঁজে পাওয়া যায়। বেঁচে থাকার সুর, ভাল থাকার সুর।

No comments:
Post a Comment