কালচিনি’র চোখ ফোলা বুড়ীর থুকপা
সাহেবরা ‘দুয়ার’ উচ্চারণে অক্ষম ছিলেন, তাই পাঁচটি ‘দুয়ার’কে
একসাথে বলতেন, ‘ডুয়ার্স’। এইসব
জঙ্গল পাহাড়ে এখনও নাকি পর্তুগিজ পর্যটক স্টিফেন ক্যাসিলার আত্মা ঘুরে বেড়ায়। এরকম
অনেক কিংবদন্তি ছড়িয়ে আছে জঙ্গলে। পেসিফিক-ওরিয়েন্টাল স্টিমশিপ জাহাজে চেপে এদেশে
আসার সময় সাহেবরা বয়ে এনেছিলেন তাঁদের সংস্কৃতি। এখনও এখানের চাবাগানের
ম্যানেজারদের সাথে কথা বললে- এসব বেশ অনুভব করা যায়। যেমন হিমালয়ের ওপার থেকে কয়েক
হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে গ্রিব-হাভাতের দল ভিড়
জমিয়ে ছিল চা বাগানে। তারাও বয়ে এনেছিল খাবার, গন্ধ, বর্ণ আর
সুর।
ছেলেবেলায় প্রথমবার কালচিনির ইউনিয়ন অ্যাকাডেমিতে গিয়েছিলাম, সেসময়ের ঘটনা। কালচিনির চৌরাস্তায় এক গুর্খা বুড়ীর দোকান ছিল। চোখ ফোলা বুড়ী। মফস্বলের কলরব এখানে গাঢ় হয়ে আসে। শীতের কুয়াশা এখানে একটু ম্লান। ছেঁড়া শ্যাওলা জমা জোব্বার মত একটা পোশাক। ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে চোখ ফোলা মুখ। এত বলিরেখা আমি এর আগে কারও মুখে দেখিনি। অজস্র বলিরেখার স্তরে স্তরে জমেছিল বয়স। বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোক বুড়ীর দোকানে দাঁড়িয়ে কী একটা খাচ্ছিল। সুড়ুত সুড়ুত শব্দ। এখানেই প্রথম খেয়েছিলাম ‘থুকপা’।
‘থুকপা’ আসলে তিব্বতি নুডল। এরপর ছড়িয়ে পড়েছে হিমালয়ের অন্যান্য জায়গায়। নেপাল, ভুটান, ডুয়ার্স সহ উত্তর-পূর্বের পাহাড়ে ভীষণ জনপ্রিয় ‘আমদো থুকপা’। মাংস, সবজি, টম্যাটো স্যুপ মিলে মিশে একাকার। বলা হয়, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আবিষ্কার এই ‘থুকপা’। মনপা এবং শেরদুকপা – এই দুই বৌদ্ধ আদিবাসীদের মধ্যে প্রথম ‘থুকপা’র ব্যবহার দেখা যায়। বিভিন্ন চৈনিক এবং বার্মিজ খাবার (যেমন- মোমো)কে এরা নিজেদের মত করে ব্যবহার করেছে। প্রধানত পাঁচ ধরণের ‘থুকপা’র কথা জানা যায়। ১) মিংজি থুকপা (ময়দা আর ডিমের তৈরি), ২) আমদো থুকপা, ৩) তুমস্তা থুকপা (চাল, হিমালয়ান চীজ আর মাংস দিয়ে তৈরি), ৪) দেথুক থুকপা (চাল দিয়ে তৈরি) এবং ৫) মিংথা থুকপা। প্রার্থনা সভায় ‘থুকপা’ পরিবেশন করার রেওয়াজ বহুদিন থেকেই বৌদ্ধদের মধ্যে দেখা যায়।
আসলে অনেকদিন পর বাড়ি গিয়েছিলাম। রাজাভাতখাওয়ার জঙ্গল দিয়ে কালিচিনিতে উপস্থিত হলাম সন্ধ্যা নাগাদ। তারপর গরম থুকপা আর মোমো খেয়ে আবার ঘরে ফেরা। ততক্ষণে অন্ধকার গভীর হয়ে এসেছে। পচো (আমার খুড়তুতো ভাই) কেমন কেঁপে উঠল। বাইকের আলোয় চোখে পড়ল- একটা বুড়ী জঙ্গল পেরোচ্ছে। আলো পড়তেই আমাদের দিকে চাইল। অবিকল আমার ছেলেবেলার চোখ ফোলা বুড়ী।
ছেলেবেলায় প্রথমবার কালচিনির ইউনিয়ন অ্যাকাডেমিতে গিয়েছিলাম, সেসময়ের ঘটনা। কালচিনির চৌরাস্তায় এক গুর্খা বুড়ীর দোকান ছিল। চোখ ফোলা বুড়ী। মফস্বলের কলরব এখানে গাঢ় হয়ে আসে। শীতের কুয়াশা এখানে একটু ম্লান। ছেঁড়া শ্যাওলা জমা জোব্বার মত একটা পোশাক। ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে চোখ ফোলা মুখ। এত বলিরেখা আমি এর আগে কারও মুখে দেখিনি। অজস্র বলিরেখার স্তরে স্তরে জমেছিল বয়স। বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোক বুড়ীর দোকানে দাঁড়িয়ে কী একটা খাচ্ছিল। সুড়ুত সুড়ুত শব্দ। এখানেই প্রথম খেয়েছিলাম ‘থুকপা’।
‘থুকপা’ আসলে তিব্বতি নুডল। এরপর ছড়িয়ে পড়েছে হিমালয়ের অন্যান্য জায়গায়। নেপাল, ভুটান, ডুয়ার্স সহ উত্তর-পূর্বের পাহাড়ে ভীষণ জনপ্রিয় ‘আমদো থুকপা’। মাংস, সবজি, টম্যাটো স্যুপ মিলে মিশে একাকার। বলা হয়, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আবিষ্কার এই ‘থুকপা’। মনপা এবং শেরদুকপা – এই দুই বৌদ্ধ আদিবাসীদের মধ্যে প্রথম ‘থুকপা’র ব্যবহার দেখা যায়। বিভিন্ন চৈনিক এবং বার্মিজ খাবার (যেমন- মোমো)কে এরা নিজেদের মত করে ব্যবহার করেছে। প্রধানত পাঁচ ধরণের ‘থুকপা’র কথা জানা যায়। ১) মিংজি থুকপা (ময়দা আর ডিমের তৈরি), ২) আমদো থুকপা, ৩) তুমস্তা থুকপা (চাল, হিমালয়ান চীজ আর মাংস দিয়ে তৈরি), ৪) দেথুক থুকপা (চাল দিয়ে তৈরি) এবং ৫) মিংথা থুকপা। প্রার্থনা সভায় ‘থুকপা’ পরিবেশন করার রেওয়াজ বহুদিন থেকেই বৌদ্ধদের মধ্যে দেখা যায়।
আসলে অনেকদিন পর বাড়ি গিয়েছিলাম। রাজাভাতখাওয়ার জঙ্গল দিয়ে কালিচিনিতে উপস্থিত হলাম সন্ধ্যা নাগাদ। তারপর গরম থুকপা আর মোমো খেয়ে আবার ঘরে ফেরা। ততক্ষণে অন্ধকার গভীর হয়ে এসেছে। পচো (আমার খুড়তুতো ভাই) কেমন কেঁপে উঠল। বাইকের আলোয় চোখে পড়ল- একটা বুড়ী জঙ্গল পেরোচ্ছে। আলো পড়তেই আমাদের দিকে চাইল। অবিকল আমার ছেলেবেলার চোখ ফোলা বুড়ী।

No comments:
Post a Comment